আবহমান বাংলার শেকড়ের সংস্কৃতি গাজীর গান। উৎসব ও পার্বণে লোকজ এ সংস্কৃতির সুধায় অভিভূত হতেন দেশীয় সংস্কৃতির অনুরাগীরা। কিন্তু কালের বিবর্তনে, আধুনিকতার জাঁতাকলে ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় গাজীর গান বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত। আর নাগরিক জীবনের বাসিন্দাদের কাছে এটি যেন এক রূপকথার কোনো কল্পলোকের গল্প।
কল্পলোকের সেই গল্প গাজীর গানকে এবার নাগরিক জীবনের বাসিন্দাদের সামনে তুলে ধরলেন মানিকগঞ্জের জামশার আজিজ ও তার দল। ‘নাচিয়া নাচিয়া গাইব আমি গাজীরও গান’ এমন কথার পালায় শেকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন পালাকার আবদুল আজিজ। গানের কথা ও সুরের সঙ্গে দলীয় পরিবেশনার শৈল্পিকতায় মিলনায়তনে হারিয়ে যাওয়া বাংলার গাজীর গানকে তুলে ধরে সোঁদামাটির গন্ধমিশ্রিত সংস্কৃতিকেই উপস্থাপন করেন পালাকার আবদুল আজিজ ও তার দল। মাটির গন্ধমাখা সুরে মোহিত হয়ে নস্টালজিয়ায় হারিয়ে যায় দর্শক-শ্রোতা। পরিবেশনার পরতে পরতে দাদু-নানুদের কাছ থেকে শোনা সেই কল্পলোকের গল্পগুলোতে নিজেদের হারিয়ে ফেলেন সংস্কৃতি অনুরাগীরা।
প্রয়াত নাট্যকার ও শিক্ষক সেলিম আল দীনের ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে চার দিনের উৎসবের তৃতীয় দিন গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে এমন দৃশ্যই লক্ষ্য করা গেছে।
‘অমৃত ঊষালোকে এসো হে প্রাচ্যকবি’ শীর্ষক এ উৎসবের আয়োজন করে সেলিম আল দীন সংগ্রহশালা। এর আগে বিকাল ৪টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘সেলিম আল দীন : তাঁর কবিতার কথা’ শীর্ষক সেমিনার।
এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি তারেক রেজা।
কবি ফয়েজ আলমের সভাপতিত্বে এতে আলোচক ছিলেন কুদরত ই হুদা, সোহেল হাসান গালিব ও রকিব লিখন।
এ ছাড়া উৎসবের অংশ হিসেবে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরীক্ষণ থিয়েটার হলের লবিতে চলছে সেলিম আল দীন বিষয়ক তথ্য প্রদর্শনী।
আজ শিল্পকলা একাডেমিতে শেষ হবে এ উৎসব। সমাপনী সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ পরিবেশন করবে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘ধাবমান’।