জৌলুস হারানো বরিশাল-ঢাকা নৌপথের বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে এখন চলছে যাত্রীসংকট। রোটেশন-প্রথায় দুইটি করে লঞ্চ চলাচল করলেও কাক্সিক্ষত যাত্রী নেই। যার কারণে লঞ্চ মালিক ও কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছেন।
বরিশাল নৌবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, ঘাটে দুটি লঞ্চ রয়েছে। ডেকে তেমন কোনো যাত্রী নেই। লঞ্চের সামনে কর্মচারীরা যাত্রী এলেই কেবিন লাগবে কি না, জানতে চায়।
ঘাটে থাকা পারাবত লঞ্চের কর্মচারী বাবুল শরীফ বলেন, এখন আর লঞ্চে যাত্রী নেই। ডিসেম্বর মাসে কিছু যাত্রী লঞ্চে চলাচল করেছে। জানুয়ারি মাসে তার অর্ধেক যাত্রীও আসে না। যে কেউ এলেই কেবিন পাচ্ছে।
ঘাটে থাকা এমভি প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুকানি মো. শাহ আলম বলেন, বুধবার ঢাকা থেকে মাত্র ৩০০ যাত্রী নিয়ে তারা বরিশাল এসেছেন। বৃহস্পতিবার তেমন কোনো যাত্রী ছিল না।
তিনি জানান, একসময় বরিশাল-ঢাকা নৌপথে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪টি লঞ্চ চলাচল করত। বর্তমানে ৬টি কোম্পানির ১২টি লঞ্চ চলাচল করে। যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রতিদিন ঢাকা থেকে দুইটি ও বরিশাল থেকে দুইটি লঞ্চ ছাড়ে। রোটেশন করেও তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে থাকলে লঞ্চ মালিকরা ব্যবসা বন্ধ করে দেবে।
তিনি বলেন, তাদের কোম্পানির আগে দুইটি লঞ্চ ছিল। এখন এ রুটে একটি লঞ্চ চলাচল করছে। কীর্তনখোলা-১ নামের লঞ্চটি রোলিং মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দুইবার ঢাকা-বরিশাল আসা-যাওয়ায় সাড়ে ৬ হাজার লিটার তেল প্রয়োজন। এ ছাড়াও স্টাফ, মবিল, ইঞ্জিন মেরামত, ঘাট ভাড়াসহ মোট আট লাখ টাকা ব্যয় হয়। দুইবারে এখন ব্যয় উঠে লাভ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পারাবত-১২ লঞ্চের মো. শাহীন হোসেন বলেন, বুধবার ঢাকা থেকে মাত্র আড়াই শ যাত্রী নিয়ে বরিশাল এসেছেন। কেবিনের ১২০টিতে শুধু যাত্রী ছিল। তাদের লঞ্চে সিঙ্গেল, ডাবল, ফ্যামিলি ও ভিআইপি মিলিয়ে ১৭৩টি কেবিন রয়েছে। বর্তমানে অর্ধেক কেবিন খালি থাকে।
লঞ্চ মালিকরা জানান, একটি লঞ্চের প্রতি যাত্রায় কমপক্ষে এক হাজার যাত্রী প্রয়োজন। কিন্তু এখন অর্ধেক যাত্রী পাওয়া যায় না। প্রতি ট্রিপে আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে হয়। উৎসব ও ছুটির সময় কিছুটা যাত্রী পাওয়া যায়। তা-ও চাহিদার অনেক কম থাকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে লঞ্চ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হবে।