জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর নেওয়া ‘পানির গুণগত মান পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের এপ্রিলে শুরু হয়। ২০২২ সালের জুনে মেয়াদ শেষ হলেও এক দফা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। তবে ২০২৪ সালেও কাজ শেষ করতে পারেনি। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আরেক দফা সময় বাড়াতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।
একই অবস্থা বান্দরবান পৌরসভা, জেলার তিন উপজেলা সদরসহ পাশের এলাকাসমূহে ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটির। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। মেয়াদ এক দফা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। তা-ও শেষ করতে পারেনি প্রকল্পের কাজ। এখন চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় সংস্থাটি।
শুধু এ দুটি নয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চলমান ৪৩ প্রকল্পের ১৮টির মেয়াদই যেন শেষ হচ্ছে না। অনেক প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হলেও সেই মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু প্রকল্পের মেয়াদ আবার নতুন করে বাড়ানো হয়েছে, আবার কিছু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কয়েকটি প্রকল্পে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না সেজন্য কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। আবার কয়েকটির মাঠের কাজ শেষ, শুধু অর্থ ছাড়ের কারণে মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে। এ ছাড়া সরকার পরিবর্তনের কারণে অনেক ঠিকাদার পলাতক রয়েছেন; সেজন্য সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।’
ডিপিএইচইসূত্রে জানা গেছে, খুলনার রূপসা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুলাইতে শুরু হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক দফা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। তা-ও শেষ করতে পারেনি প্রকল্পের কাজ। এ ছাড়া ২০২০ সলের জানুয়ারিতে শুরু হয় কুলাউড়া ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশনব্যবস্থার উন্নতিকরণ প্রকল্পের কাজ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। টাঙ্গাইল পৌরসভায় পানি সরবরাহব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করা হয়। একই অবস্থা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পটিরও। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পটি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্ত ছয় মাস বাড়িয়ে প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। তা-ও শেষ করতে পারেনি প্রকল্পটির কাজ।
এ ছাড়া নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভা ও উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প ২০২২ সালের এপ্রিলে শুরু হয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ করতে পারেনি। একই অবস্থা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, সাতক্ষীরার আশাশুনি, কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভা এবং শিবচর উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং মাগুরার সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশনব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের।
এ ছাড়া যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশনব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, ২৩ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি-সেক্টর প্রকল্প, বাংলাদেশের ৩০ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, কক্সবাজারে ভূগর্ভস্থ পানি অনুসন্ধানে কারিগরি সহায়তা ও চর ডেভেলপমেন্ট এন্ডসেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (সিডিএসপি-৪) অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও আবারও মেয়াদ বেড়েছে।