চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে শহীদ নাজমুল কাজীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এবিজি টাওয়ারে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে গতকাল এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে শহীদ নাজমুল কাজীর পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি নন্দিত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল হাই, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া অ্যাডভাইজার আবু তৈয়ব বক্তব্য রাখেন। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার পাশাপাশি নাজমুল কাজীর পরিবারকে প্রয়োজনে আরও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, শহীদ নাজমুল কাজী ২০২৪ সালের জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছিলেন। খাদ্য ও পানীয় বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান তিনি। তাঁর এ আত্মত্যাগ আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্থান পেয়েছে। আজ তাঁর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা ও আড়াই বছরের কন্যা আরিয়ানা কাজী নুজাইরার জীবনে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ নতুন আশা দেখিয়েছে। শহীদ নাজমুল কাজীর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী আমাদের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন। আজ বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে, তাঁর আত্মত্যাগ জাতি ভুলে যায়নি। এই সহায়তা আমাদের নতুন করে বাঁচার শক্তি ও সাহস দিচ্ছে। ছোট্ট আরিয়ানা কাজীর নিষ্পাপ চাহনি যেন জানিয়ে দিচ্ছিল, এই সহায়তা তার ভবিষ্যৎ গড়ার পথে বড় ভূমিকা রাখবে। নাজমুলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুরে। বাবা সেলিম কাজী ও মায়ের নাম নাজমা বেগম। গত ৪-৫ বছর ঢাকার রায়েরবাগের মোহাম্মদবাগ এলাকায় কাপড়ের কেমিক্যালের ব্যবসা করতেন নাজমুল। স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সের একমাত্র সন্তান আরিয়ানাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। আর বাবা-মা ও ছোট দুই ভাই থাকেন গ্রামের বাড়ি মুরাদনগরের দৌলতপুরে। বক্তারা বলেন, যে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের সঙ্গে নাজমুল কাজী দেশমাতার জন্য জীবন দিয়েছেন- তা চিরদিন স্মরণীয় থাকবে। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী বীরদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা প্রমাণ করেছে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীরদের আত্মত্যাগ কখনোই ভুলে যাওয়া যায় না।