দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে অভিযানে নেমেছিল ঢাকা জেলা প্রশাসন। কিন্তু কাক্সিক্ষত ফল না পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে ‘জনতার বাজার’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ ছয়টি স্থানে বসবে ‘জনতার বাজার’। এই বাজারের পণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এরপর সফটওয়্যারের সাহায্যে পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করবে ঢাকা জেলা প্রশাসন। মানুষ কম দামে ভালো মানের পণ্য হাতে পাবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনতার বাজার সম্পর্কে
বিস্তারিত জানান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দ্রব্যের চড়া দামের সমস্যা শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা নিয়মিত টাস্কফোর্স পরিচালনা করছি। তবে এসব অভিযান পরিচালনা করে সেভাবে ফল আসছে না। বিভিন্ন জেলায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে। সেখানকার মানুষ সুফল পাচ্ছেন। তারা ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য কিনছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্যার একদিন মিটিংয়ে এমন উদ্যোগ নিতে বলেন। এরপর আমরা ‘জনতার বাজার’ করার সিদ্ধান্ত নিই।
তিনি আরও বলেন, জনতার বাজার নামের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করি। এরপর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। জনতার বাজার বাস্তবায়নে বেকার যুবকদেরও কাজে লাগানোর চিন্তা করা হচ্ছে। ঢাকার ছয়টি স্থানের মধ্যে প্রথমে মোহাম্মদপুরে জনতার বাজার বসবে। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর, গুলশান, বাড্ডা ও ডেমরায়ও বসবে। পর্যায়ক্রমে জনতার বাজার আরও বাড়বে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ বলেন, জনতার বাজারে চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সব নিত্যপণ্য সাশ্রয়ী দামে বিক্রি হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর ছয় স্থানে চালু হবে এ বাজার। দেশের যেখানে যে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকবে, সেখান থেকে পণ্য এনে সরাসরি এ বাজারে বিক্রি করা হবে। যে কোনো চাষি, খামারি বা উৎপাদনকারী তার উৎপাদিত পণ্য সরাসরি এনেও বিক্রি করতে পারবেন। এ বাজার টেকসইভাবে পরিচালিত হবে এবং রাজধানীর মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
‘জনতার বাজারের’ পণ্য কীভাবে আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় কৃষক বা ফড়িয়াদের কাছ থেকে পণ্য কিনে সরাসরি ‘জনতার বাজারে’ নিয়ে আসব। এ কাজটা কিন্তু সরাসরি আমরা করব না বা সরকারও করবে না। সরকার বা জেলা প্রশাসন শুধু সহযোগিতা ও সমন্বয় করবে। এ কাজ পরিচালনার জন্য বেকার যুবকদের সংযুক্ত করা হচ্ছে। তবে বাজারের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও অবকাঠামোও নির্মাণ করে দেবে সরকার।
‘জনতার বাজারে’ আনা পণ্যের দাম নির্ধারণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ বলেন, জনতার বাজারে কীভাবে পণ্য আনা হচ্ছে তা তদারকি করা এবং মূল্য নির্ধারণ করার দায়িত্ব থাকবে ঢাকা জেলা প্রসাশনের হাতে। পণ্যের ক্রয় মূল্য, পরিবহন খরচ এবং এর সঙ্গে উদ্যোক্তার একটি যৌক্তিক মুনাফা ধার্য করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হবে। পণ্যের দাম নির্ধারণে আমরা একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করব। সফটওয়্যারে পণ্যের তথ্যাবলি ইনপুট (অন্তর্ভুক্ত) করব। সফটওয়্যার ফর্মুলা অনুযায়ী পণ্যের দাম নির্ধারণ করবে। সফটওয়্যারের পণ্যের দাম সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। এরপর জনতার বাজারের প্রতিটি পণ্যের দাম চূড়ান্ত করবে ঢাকা জেলা প্রশাসন।