অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার কার্যক্রমের একটি তালিকা দিয়েছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তালিকায় প্রথমেই রয়েছে জুলাই শহীদ-আহতদের তালিকা প্রণয়ন, চিকিৎসা প্রদান। আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অর্থসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন। এ ছাড়া তালিকার দুই নম্বরে লুটের বিচার ও অর্থ ফেরত আনা, তিন নম্বরে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা এবং চার নম্বরে রাষ্ট্রের সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন। গতকাল মাহফুজ আলমের ফেসবুক পেজে তিনি এই অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম ওই পোস্ট শেয়ার করেন।
‘আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার, সরকারের পক্ষ থেকে’- বিষয়ক ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম যেসব অগ্রাধিকার কার্যক্রম তুলে ধরেন সেগুলো হলো- জুলাই গণহত্যার বিচার ও সে লক্ষ্যে যথাযথ মামলা ও সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা; গত ১৬ বছরের গুম, খুন ও অর্থনৈতিক লুটপাটের বিচার। লুট হওয়া অর্থ ফেরত আনা; জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা; জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের বিবিধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবসম্মত সংস্কার নিশ্চিত করা; শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও আবাসনসহ সব জনগুরুত্বপূর্ণ খাত ঢেলে সাজানো; তরুণ প্রজন্মের জন্য চাকরি ও উদ্যোগের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা বৃদ্ধি করা; কথিত উন্নয়ন অর্থনীতির বদলে জনগণ, প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের অনুকূল অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
সরকারের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় তিনি যেসব বিষয় উল্লেখ করেন সেগুলো হলো- অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা; জাতীয় স্বার্থকে সব ক্ষেত্রে সমুন্নত রাখা এবং বিগ করপোরেশন ও বিদেশি স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের জনগণ এবং প্রাণ প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া; জাতীয় অগ্রাধিকার তথা জাতীয় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য ধরে রাখা এবং জনগণের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ও খুনিদের ফেরত আসার পথ রুদ্ধ করা; সংস্কারের পক্ষে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তথা নির্বাচনব্যবস্থা, সংস্কার সাপেক্ষে জনগণের রায়ের কাছে ছেড়ে দেওয়া এবং সারা দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে (দায়িত্ব ও অধিকার বিষয়ে) শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা।