রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে ১৯৯২ সালে। এটিই রাজশাহীর প্রথম আবাসন প্রকল্প। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) প্রকল্পটিতে প্লট বরাদ্দ দেয়। ৩৩ বছর আগে প্লট বরাদ্দ নিলেও নাগরিকদের অনেকে এখনো সেখানে ভবন নির্মাণ করেননি। শুধু ওই একটি আবাসন প্রকল্প নয়, আরডিএ ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নেওয়া ১২টি প্রকল্পের হাল এমনটি। এর মধ্যে আরডিএর ৯টি ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
আরডিএ সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে পদ্মা আবাসিক, ১৯৯৩ সালে পারিজাত আবাসিক, ১৯৯৫ সালে বনলতা বাণিজ্যিক, ১৯৯৭ সালে ছায়ানীড় আবাসিক, ২০০৬ সালে চন্দ্রিমা আবাসিক, ২০১০ সালে মহানন্দা আবাসিক, ২০১৭ সালে বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা সম্প্রসারণ, ২০১৯ সালে বারণই আবাসিক, ২০২৪ সালে প্রান্তিক আবাসিক এলাকা উন্নয়ন গড়ে তোলে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ১৯৯২ সালে উপশহর আবাসিকের সেক্টর-১, ২ ও ৩, ছোটবনগ্রাম ও ২০১৮ সালে তেরখাদিয়া এলাকায় আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলে। আরডিএ ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আরও আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এসব আবাসিক প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক নেতারা। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ৩৩ বছর আগে প্লট বরাদ্দ নিলেও এখনো সেখানে ভবন নির্মাণ করেননি অনেকে। যাদের টাকা আছে, তারা প্লট কিনে ফেলে রেখেছেন। যাদের প্রয়োজন, তাদের অনেকে প্লট পাননি। ফলে আবাসিক এলাকা যে পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে, তা ভেস্তে যেতে বসেছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম তুহিনুর আলম বলেন, আবাসিক এলাকাগুলো মানুষের বাসস্থানের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর একটা মেয়াদ থাকে ভবন নির্মাণের। অনেকে সেই নিয়ম মানছেন না। ইতোমধ্যে অনেককে নোটিস দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর প্লট ফেলে রাখার সুযোগ নেই। যারা প্লট বরাদ্দের নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম জানান, প্লট বরাদ্দের পর গ্রহীতাকে একটা সময় দেওয়া হয় ভবন নির্মাণের জন্য। সেই সময়টা না মানলে প্লট বাতিল পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনেকে সময়ের আবেদন করেন, সেটি বিবেচনা করা হয়। তারপরও যারা প্লটে ভবন নির্মাণ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।