রংপুরের কাউনিয়া থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত রেলপথ মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০১৮ সালে। সিদ্ধান্তের ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পটি সমীক্ষাতেই আটকে রয়েছে। ফলে একনেকের বৈঠকে প্রকল্প পাস হলেও কাজ এখন শুরু করতে পারেনি রেল বিভাগ। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পে কাউনিয়া থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ৫৭ কিমি মেইন লাইন স্থাপন করার কথা রয়েছে। সাতটি স্টেশন বিল্ডিং, গার্ডার ব্রিজ ১৪টি ও বক্স কালভার্ট ৩৩, চারটি প্ল্যাটফর্ম শেড নির্মাণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি কম্পিউটার বেজড সিগন্যালিং সিস্টেম করার কথা রয়েছে। সে সময় রেলপথটিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ১ হাজার ৩৭৬ কোটি ২৪ লাখ এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল সদ্য ২০২২ সালে ৩১ ডিসেম্বর। শেষ তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত কাজই শুরু করতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার পরে ওই বছরের ১০ মার্চ পরামর্শক নিয়োগের জন্য নোটিস দেওয়া হয়।
ওই বছরের ২৬ জুলাই সেটা উন্মুক্ত করা হয়। মূল্যায়নের পর এটি ওই বছরের ১৯ আগস্ট বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এর পরে শুরু হয় সমীক্ষার কাজ। জানা গেছে, চিলাহাটি থেকে পার্বতীপুর-ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেলপথ ব্রডগেজ। কিন্তু দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ভারতের রাধিকাপুর ও পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত রেলপথ মিটারগেজ। কাউনিয়া-পার্বতীপুর ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তরিত হলে একই সঙ্গে মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে সেই সঙ্গে অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারতসহ নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সহজেই রেলওয়ে ট্রানজিট স্থাপন করতে পারত। এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের জিএম আবদুল আউয়াল ভূইয়া বলেন, ওই প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। প্রকল্প পরিচালক বলতে পারবে।
প্রকল্প পরিচালক আসলাম বারীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।