অবশেষে জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত দুর্জয় আহমেদের মামলায় রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আলোচিত সন্ত্রাসী বিদ্যুৎ ঘোষকে। বৃহস্পতিবার যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর বিদ্যুৎ ঘোষকে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদ শেষে তাকে বাড্ডা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সন্ত্রাসী বিদ্যুৎ ঘোষকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার এসআই অনিন্দ্য। তিনি জানান, ‘আসামি বিদ্যুৎ ঘোষ বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আগামীকাল তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হবে।’
জানা যায়, গত বছরের ২০ জুলাই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুরুতর আহত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন ভুক্তভোগী দুর্জয় আহমেদ। পরে তিনি বাড্ডা থানায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, সন্ত্রাসী বিদ্যুৎ ঘোষ ও কবীর আহমেদসহ ৫০-৬০ জনকে আসামি করে এ সংক্রান্ত একটি মামলা করেন (মামলা নং ২৬, তারিখ ২০/১১/২০২৪, ধারা ১৪৩/৩২৬/৩২৪/৩০০/১১৪ পেনাল কোড)। কিন্তু মামলার পরও আসামিদের আইনের আওতায় না আনা এবং আসামিদের থেকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেন দুর্জয়। এতে শঙ্কিত হয়ে আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টাসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভিডিও বার্তা দেন দুর্জয় আহমেদ।
এদিকে, সন্ত্রাসী বিদ্যুৎ ঘোষকে গ্রেফতারের পর মামলার বাদি দুর্জয় আহমেদ জানান, ‘আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই। কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করায় আমি প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি কোর্টের নিকট আইনজীবীর মাধ্যমে আর্জি জানাব- যেন বিচার নিশ্চিত করার আগে এ ধরনের সন্ত্রাসীদের জামিন না দেয়া হয়।’
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনে গুলিতে দুর্জয় আহমেদের দুটি চোখই মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে চিরদিনের জন্য তিনি অন্ধ হয়ে যান। তার মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গত ২০ জুলাই সকালে মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোস্ট অফিস গলির মাথায় অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। আসামিদের ছোড়া গুলিতে দুর্জয়ের দুই চোখই অন্ধ হয়ে যায়। এর বাইরে তিনি মাথায়ও আঘাতপ্রাপ্ত হন।
এ মামলায় কবির আহমেদকে অর্থের জোগানদাতা এবং বিদ্যুৎ ঘোষকে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুই আসামির বিরুদ্ধে বিধবার অর্থ আত্মসাৎ, জাল জালিয়াতি প্রতারণা ও অর্থ পাচারসহ নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।