রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করেও আন্দোলন দমাতে পারেনি পুলিশ। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এরপরও তাদের দমানো না গেলে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছোড়া হয়।
এ সময় আন্দোলনকারীদের ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘পুলিশের হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ দিন ‘সুপারিশপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষকবৃন্দ তৃতীয় ধাপ (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ)’ এর ব্যানারে সকাল থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছিলেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর একটার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা।
দুইটার দিকে পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ মোড় থেকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাদের তুলে দিতে প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।
আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি তিনটি ধাপে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় ধাপ নিয়ে চলছে প্রহসন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৪ জুন তৃতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় একই বছরের ২১ এপ্রিল। ১২ জুন ভাইভা সম্পন্ন হয়। আইন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ৩১ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে ছয় হাজার ৫৩১ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
তখন হাইকোর্টে রিট করেন সুপারিশপ্রাপ্ত হননি এমন ৩১ জন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছয় হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ছয় হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট।
বিডি-প্রতিদিন/শআ/কেএ