গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, দেশের জনগণের আকাঙ্খা অনুসারে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এজন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। স্বৈরাচারের উদ্ভব ঠেকাতে ভবিষ্যতের জন্য আবার আমাদের জীবন-রক্ত দিতে হবে কিনা তা পরিষ্কার না। ফের স্বৈরাচারের উদ্ভব হবে; যদি শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার না করেন। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থান ও গণআকাঙ্খার প্রেক্ষিতে অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান আরও বলেন, মেধার প্রশ্ন না তুলে, জাতি- ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সব ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বুনিয়াদি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল-কলেজে ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে আমরা এমন এক নতুন প্রজন্ম পাবো, তারা দেশের জন্য উন্নত জনশক্তি-মেধাশক্তির শর্ত পূরণ করবে।
অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হচ্ছে। মূল উৎপাদন শক্তি বিদ্যুৎ, যা না থাকলে কারখানা চলে না। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, আমরা যথেষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন কাজে আসছে না। ভারত, রাশিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি করা হয়েছে তা কোন কাজে আসছে না।
তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে ব্যাপক হারে দেশের সম্পদ টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার হয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত সেই টাকা দেশে ফেরত আনা এবং যাদের কাছে জমা আছে তা বাজেয়াপ্ত করা। কিন্তু সরকার একজনের টাকাও বাজেয়াপ্ত বা বিদেশ থেকে আনেনি। এদিকে শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে না, বন্ধ হচ্ছে কারখানা সেদিকে সরকারের পদক্ষেপ নেই।
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভর সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা দেন, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জহিরুল ইসলাম কচি, ববির বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উন্মেষ রায়, সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার, স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিস্ট সাইদুল হক নিশান, বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট একে আজাদ, অ্যাডভোকেট তপংকর চক্রবর্তী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দুলাল মজুমদার প্রমুখ।
বরিশাল জেলা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা সঞ্চালনা করেছেন সংগঠক হুজাইফা রহমান।
বিডি প্রতিদিন/এএ