গাজীপুরের সাফারি পার্ক দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়া নীলগাই ১৭ দিনেও বশে আনা যায়নি। পালিয়ে যাওয়া নীলগাইটি পার্কের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে সেটিকে পার্কে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বনবিভাগ।
শনিবার দুপুরে পার্ক সূত্রে জানা গেছে, পার্কের হরিণ বেস্টনীতে রাখা ছিল ১১টি নীলগাই। প্রজনন মৌসুমে মাদী নীলগাইয়ে সঙ্গী পেতে পুরুষ নীলগাই মারামারিতে লিপ্ত হয়। গত ১৬ জানুয়ারি পুরুষ নীলগাইয়ের সঙ্গে মারামারির এক পর্যায়ে একটি পুরুষ নীলগাই হরিণ বেষ্টনীর পাঁচ ফুট উচ্চতার সীমানা প্রাচীর টপকে ওয়াইল্ডবিস্ট বেস্টনী হয়ে পার্কের বাইরে চলে যায়।
গাজীপুরের সহকারী বন সংরক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, নীলগাইটি পার্কের আশপাশে ঘুরাফেরা করছে। নীলগাইটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, ময়মনসিংহের ভালুকার সীডস্টোর, বাটাজোর ও টাঙ্গাইলের সখীপুর এলাকায় বিচরণ করছে বলে খবর আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় গিয়েও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, পার্কের প্রায় ৭ হাজার ফুট সীমানা প্রাচীর জরাজীর্ণ, যে কোন সময় ধ্বসে যেতে পারে। এছাড়াও গত বর্ষায় পানি আটকে পার্কে সীমানা প্রাচীরের বেশকিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় সীমানা প্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে পার্কের প্রাণিগুলো, দ্রুত সময়ের মধ্যে জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীরের সরিয়ে নতুন সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা না হলে আবার হিংস্র প্রাণিসহ অন্যান্য প্রাণিগুলো লোকালয়ে চলে যেতে পারে।
এর আগেও ২০২১ সালে পার্ক থেকেই আরেকটি নীলগাই পালিয়ে যায়। দুই মাস পর টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে পালিয়ে যাওয়া নীলগাইটিকে উদ্ধার করে পার্কে আনে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ হওয়া চারটি নীলগাইকে সাফারি পার্কে আনা হয়। সেখানেই তারা নতুন বাচ্চার জন্ম দিয়ে দলের সংখ্যা বাঁড়িয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাফারি পার্কে সর্বশেষ ১১টি নীলগাই ছিল। নীলগাইটি পালিয়ে যাওয়ার পর এখন সেখানে রয়েছে ১০টি।