নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রভাব বিস্তার ও আড়ত দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় জিপ গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হয়।
এ ঘটনায় রাফি আহমেদ স্বপন ও রাজু ভুইয়া নামে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছে। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢাকেম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটানার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহসড়ক সংলগ্ন সাওঘাট এলাকায় বিসমিল্লাহ আড়ত নিয়ে আড়তের জমির মালিক সেলিম প্রধানের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তের জমির ভাড়াটিয়া মুজিবর রহমানের বিরোধ চলে আসছিল। ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের দাবি সেলিম প্রধানের মালিকানাধীন জমি তিনি ১০ বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিতে ভাড়া নেন।
পরে সেখানে বালু ভরাট ও সেড নির্মাণ করে কাচাঁবাজারের আড়ত গড়ে তোলেন। বর্তমানে পেশিশক্তি খাটিয়ে আড়তটি বেদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন সেলিম প্রধান। অপরদিকে, সেলিম প্রধানের দাবি ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে জমি দখল নিয়ে আড়ত গড়ে তোলেন মুজিবর রহমান।
এদিকে, আড়তটি দখল করতে সেলিম প্রধানের পক্ষ নেয় মাসুদুর রহমান ও তার লোকজন। অপরদিকে, মুজিবর রহমান ও আড়তের ব্যবসায়ীদের পক্ষ নেয় রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন।
মঙ্গলবার দুপুরে আড়তের পাশে সেলিম প্রধানের বাড়িতে মাসুদুর রহমানের লোকজন অবস্থান নেয়। এসময় আড়তের পাশের সড়ক দিয়ে রফিকুল ইসলাম তার লোকজনদের নিয়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল বের করে। এসময় সেলিম প্রধানের বাড়ির ভেতর থেকে মিছিলে ইট-পাটকেল ছোড়া হয় ও মিছিলের উপর হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মাঝে অন্তত ২২ জন আহত হন। আহতের মধ্যে রাজু ও স্বপন নামে দু’জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় একটি জিপ গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর চালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল করছিলাম। ওই মিছিলে সেলিম প্রধানের লোকেরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, গুলি ও হামলা করে।
তবে মাসুদুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে শুনেছি আমার লোকজনের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধসহ অনেকে আহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গ সার্কেল মেহেদী ইসলাম বলেন, সেলিম প্রধানের সঙ্গে মুজিবর রহমানের বিসমিল্লাহ আড়ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। যেহেতু এখানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, আমরা অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাবো। এ ঘটনা কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আড়তের আসল মালিক কে, সেটির জন্য আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবো।
বিডি প্রতিদিন/এমআই