রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারা দেশে বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের অফিসগামী মানুষ। সেই সঙ্গে যে সকল শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে থাকেন তারাও ভোগান্তির শিকার।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। অনেকেই ট্রেন চলাচল বন্ধের আগাম খবর না পাওয়ায় স্টেশনে এসেও বিকল্প পথে যাতায়াত করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে সূত্র বলছে, বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করে। এদের মধ্যে অফিসগামী লোকজন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রয়েছে।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া রেলস্টেশন গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা স্টেশনে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্টেশন মাস্টার আসলেও গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শকের (টিটিই) দেখা মিলেনি।
সীমান্ত নামে এক যাত্রী তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন স্টেশনে। তার গন্তব্য সিরাজগঞ্জ। তিনি বলেন, 'আমি জানতাম না ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রার শুরুতেই আমাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এখন জানি না সিরাজগঞ্জ কীভাবে যাওয়া হবে।'
তাহমিনা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমি ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। প্রতিদিনই ট্রেনে করে যাতায়াত করি। কারণ ট্রেনে যাতায়াত আমার জন্য সাশ্রয় হয়ে থাকে। আজ এসে দেখি ট্রেন নেই। এখন হয়তো দ্বিগুণ ভাড়া বহন করে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হবে।'
নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম বলেন, স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে সকাল থেকেই ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকা থেকে কোনো ট্রেন আসেনি ও নারায়ণগঞ্জ থেকে কোনো ট্রেন যায়নি। কত সময় এই কর্মবিরতি চলবে তা জানা নেই।
এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামে পুরোনো রেলস্টেশনে সংবাদ সম্মেলন করে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দাবি মানার শর্ত দেয় রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। অন্যথায় ২৮ জানুয়ারি থেকে রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। এই রানিং স্টাফরা হলেন গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক (টিটিই)।
বিডি প্রতিদিন/মুসা