গাজীপুরে চিকিৎসা দিতে এসে ফেরার সময় অপহরণের শিকার হয়েছিলেন আমিনুর রহমান (৪০) নামের এক চিকিৎসক। টাকার বিনিময়ে গাজীপুরের একটি স্থান থেকে ছাড়া পেয়ে রবিবার ভোরে আহত অবস্থায় বাসায় ফিরেছেন তিনি। রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসক আমিনুর রহমানের চাচাতো ভাই সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মিল্টন।
চিকিৎসকের চাচাতো ভাই সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মিল্টন বলেন, রবিবার ভোররাত ৩টা পর্যন্ত অপহরণকারীরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে কয়েক দফায় টাকা নেয়। এর পর ভোররাত ৪টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে গাজীপুরের হোতাপাড়া ও রাজেন্দ্রপুরের মাঝামাঝি একটি স্থানে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় অপহরণকারীরা। তাকে ছেড়ে দেওয়ার আগে তার কাছে থাকা ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা, দুটি স্মার্টফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে গেছে অপহরণকারীরা। এর আগে চিকিৎসকের স্ত্রী মোসা: লুনার কাছে ফোন দিয়ে অপহরণকারীরা স্বামীকে দফায় দফায় মারধর করে কান্নার শব্দ শুনিয়ে টাকা দাবি করেছিল।
আমিনুর রহমান টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার কচুটি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক।
ঘটনার বর্ণনায় চিকিৎসকের ছোটবোনের স্বামী সৈয়দ ইসমাইল হোসেন বলেন, শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় একটি ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করেন আমিনুর। চিকিৎসা দিতে ঢাকা থেকে শনিবার দুপুরে তিনি শ্রীপুরে যান। ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অপহরণ করা হয়। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর থেকে জোর করে তাকে দিয়ে পরিবারের কাছে ফোন করিয়ে মুক্তিপণ দাবি করায় অপহরণকারীরা। কথা বলা অবস্থায় তাকে মারধর করা হচ্ছিল। অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। রাত এগারোটা পর্যন্ত তিন দফায় মোট এক লাখ টাকা অপহরণকারীদের পাঠানো হয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পরপর আমিনুর রহমানের মুঠোফোন থেকে অপহরণকারীরা বাকি টাকা পরিশোধে চাপ দিচ্ছে। এর পর রাত ৩টা নাগাদ আরো ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়।
চিকিৎসকের স্ত্রী মোসা. লুনা বলেন, মারধর করে স্বামীকে কয়েক দফা কথা বলিয়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। বারবার কান্না শুনিয়ে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ দিয়েছে তারা। বিষয়টি গাজীপুরের শ্রীপুর থানা ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) জানালে তারা অভিযান শুরু করে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, ওই চিকিৎসক বাসায় ফিরেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। আমরা ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তৎপরতা চালিয়েছিলাম।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল