এই ছোট ছোট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাবো, পুকুর ভরা মাছ আর গোলা ভরা ধান, আরে ও পাহাড়ীয়া সাপের খেলা, চিরা কুটি চিরা কুটি বকুল গাছের তলেতে ও দিদি কুটুম আইসাছে বাড়িতে- এমন হারিয়ে যাওয়া মনোমুগ্ধকর গানের ডিসপ্লেতে প্রাণবন্ত করে তোলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গন।
শিক্ষার্থীরা নানান সাজে ফুটিয়ে তোলে গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। মনকাড়া ডিসপ্লেতে হারিয়ে যাওয়া গ্রামের বাতাস শহরের আকাশে ভেসে উঠায় উচ্ছাসে ফেটে পড়েন অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবকসহ হাজারো দর্শনার্থী। শুরু হয় শহরের বাতাসে গ্রামীণ সুরের গান। বরণ করা হয় ফুল ও মালা দিয়ে অতিথিদেরকে। এ যেন চিরচেনা এক প্রাণের উল্লাস।
আনন্দঘন পরিবেশে শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বগুড়া শহরের জয়পুরপাড়া টিএমএসএস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রাণবন্ত করতে হারিয়ে যাওয়া এসব গানের ডিসপ্লেতে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
এদিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার পরিচালক প্রফেসর মো. আবেদ নোমানী। টিএমএসএস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিএমএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির উপচার্য প্রফেসর ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির রেজিস্টার ড. এস জে আনোয়ার জাহিদ, বিসিএল এর এমডি আলী হায়দার, ভিসি শুলশান আরা প্রমুখ।
শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দলগত ডিসপ্লে, মশাল প্রজ্জ্বলনের পর শুরু হয় শ্রেণিভিত্তিক ও ছাত্রীদের পৃথক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এরপর ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থী নৃত্য ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষিকারাও নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে উচ্ছাসে ফেটে পড়েন। মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লেতে প্রতিযোগিতায় ২০টি ইভেন্টে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্কাউটদের কুচকাওয়াজ ও শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে দর্শকদের মুগ্ধ করে। এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিক্ষকদের অপেশাদারি দৌড় প্রতিযোগিতা, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। বিকালে ক্রিড়া প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে টিএমএসএস এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও ভালো মানুষ গড়ে তুলতে নিয়মিত পড়াশোনার বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজন। তিনি বলেন, সৃজনশীল সহশিক্ষা কার্যক্রম আমাদের উপহার দেবে প্রচণ্ড প্রাণশক্তিতে ভরপুর এক নতুন প্রজন্ম। যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গতিকে আরও বেগবান করবে। এসময় তিনি ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল