বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই গণহত্যার বিচার, শহীদদের তালিকা, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিতে ছাত্র সমাবেশ করেছে দলটি।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এর আগে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে একটি র্যালি টিএসসি হয়ে শাহবাগে সমাবেশে যোগ দেয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ডের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামলী শীল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথী, সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমিন শেখ, অর্থ সম্পাদক ফারহানা মুনা, কেন্দ্রীয় সদস্য শ্রীধাম শীল, আরমানুল হক, আল-আমিন রহমান, আজাদ হোসেন, রাইদুল ইসলাম সাকিবসহ নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, ৫ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো গণহত্যার বিচারে কোনো কার্যকর ভূমিকা সরকার নেয়নি। আমরা এখনো আহতদের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছি। শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি। সরকারকে বলি দ্রুততম সময়ে এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিন। অভ্যুত্থানের পরের সরকার ব্যর্থ হোক সেটা আমাদের কাম্য নয়। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। জাতীয় রাজনৈতিক কাউন্সিল গঠন করুন, ছাত্রদের জন্য ছাত্র কাউন্সিল গঠন করুন। এবং সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করুন।
ক্ষমতায় থেকে দলগঠন মানুষ ভালোভাবে নেয় না উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ছাত্ররা নতুন দল করতে চাইছে। আমরা স্বাগত জানাই। অভ্যুত্থানের চৈতন্য নিয়ে, আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যদি নতুন দল হয়, ছাত্রদের একাংশ যদি দল গঠন করে তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাবো। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে নেয় না।
সমাবেশে তাসলিমা আখতার বলেন, আমরা চাই না আরেকটা ফ্যাসিবাদ তৈরি হোক। আমরা চাই তরুণরা দেশের মানুষের জান ও জবানের অধিকারে ছাত্র ফেডারেশনসহ ছাত্রসমাজ ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত মো. জামাল হোসেন বলেন, আজ ৫ মাস পেরিয়ে গেছে। আমার হাত-পায়ে গুলি লেগেছে ঠিকমতো চিকিৎসা পাইনি। কোনো কাজ করতে পারি না। জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ১ লক্ষ টাকা পেয়েছি। এখন খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
সভাপতির বক্তব্যে মশিউর রহমান খান রিচার্ড বলেন, ঘোষণা একটাই সাম্য, মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ। ঘোষণা একটাই, যারা একাত্তরের শহীদদের অসম্মান করতে চায় তাদের পরাস্ত করবো। যারা জুলাই গণহত্যায় জড়িত তাদের পরাজিত করতে হবে।
মশিউর রহমান রিচার্ড আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানকে গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে ছাত্র নেতৃত্বরা অভ্যুত্থানকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আমরা অভ্যুত্থানের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে জাতীয় ছাত্র কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম কিন্তু তারা গোষ্ঠীগত স্বার্থে সেই জাতীয় ঐক্যকে সংহত না করে তাকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল