শীত প্রধান দেশের বিদেশি টিউলিপ ফুল এখন ফসলের খেতে ফুটে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে দিনাজপুরের পল্লীগ্রামে। ফুটন্ত এসব রঙিন ফুল দেখতে ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। দিনাজপুরের বিরলে গাঁদা ও গোলাপ ফুল কিংবা সদরের নশিপুর এলাকায় চাষ হয় রজনীগন্ধা ফুলের। কিন্তু ইতিপূর্বে এই টিউলিপ কেউ চাষ করেননি। ভালো লাভের আশায় ধান এবং সবজি চাষের খেতে প্রথমবার এই টিউলিপ ফুলের চাষ করে বাজিমাত করেছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের আটগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার হাছিনুর রহমান চৌধুরী।
আটগাঁও ইউপির বন্ধুগাঁও এলাকায় চলতি বছরে তার দুই শতাংশ জমিতে ৫টি রঙের টিউলিপ ফুলের ৫০০ চারা রোপণ করেছেন। এরই মধ্যে ৩০০ চারা গাছে রঙিন টিউলিপ ফুল ফুটেছে এবং বাকি গাছে কয়েকদিনের মধ্যে ফুটবে ফুল বললেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হাছিনুর রহমান চৌধুরী। আসছে বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসে ফুলপ্রেমীদের জন্য নতুন উপহার হিসেবে টিউলিপ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। নিবিড় পরিচর্যার জন্য এখন কাউকে টিউলিপ বাগানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এতে তিনি সফলতা পেলে আগামীতে পাঁচ একর জমিতে টিউলিপ চাষ করার ইচ্ছা পোষন করেছেন। টিউলিপ দিনাজপুর অঞ্চলে ফুলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
টিউলিপ বাগানে দেখা যায়, হাছিনুর রহমানের দুই শতক জমির বাগানে সারি সারি টিউলিপ গাছে ফুল ফুটে আছে। ওপরে পলিথিন ও ছোট ছিদ্রযুক্ত নেট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে সূর্যের আলো। নিচে মাটিতে সানরাইজ, অ্যান্টার্কটিকা হোয়াইট (সাদা), লা বেলা রেড (লাল), স্ট্রং গোল্ডসহ (ইয়েলো) অ্যাড রেম (অরেঞ্জ) এবং মিল্কশেক (লাইট পিংক) প্রজাতির টিউলিপ ফুটবে। এর আগে এই খেতে ধান এবং পরে সবজি চাষ করা হয়েছে। ভালো লাভের আশায় এবার টিউলিপ চাষ করা হচ্ছে।
জনপ্রতিনিধি হাছিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার এক ভাতিজা তাসিকুল আলম তপু পঞ্চগড়ে ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করে। সে পঞ্চগড়ে টিউলিপ চাষ করতে দেখে আমাকে উৎসাহিত করে। তার মাধ্যমে যোগাযোগ করে সেখান থেকে প্রতিটি চারা ১০০ টাকা দরে ৫০০ চারা কিনি। সেগুলো পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি। শীত মৌসুম দীর্ঘায়িত না হওয়ায় টিউলিপ ফোটাতে তেমন একটা কষ্ট হয়নি। চারা রোপণের ১৩ দিন পরেই হলুদ রঙের টিউলিপ ফুল ফুটেছে। প্রতিদিনই ফুল ফুটছে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি সব গাছে টিউলিপ ফুটবে। ৫০০ চারা কিনতে হাছিনুর রহমানের খরচ হয়েছে ৫০ হাজার। এর পাশাপাশি বাঁশ, বেড়া, পলিথিন ও আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। দুজন শ্রমিক কাজ করছেন। এবার পুরোপুরি সফল হতে পারলে আগামীতে পাঁচ একর জমিতে টিউলিপ চাষ করবো। এরইমধ্যে টিউলিপ বাগান দেখতে মানুষ ভিড় করছেন। তবে পরিচর্যা ও নিরাপত্তার জন্য এখনো কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
টিউলিপ ফুল চাষের জমি প্রস্তুত প্রণালীর বিষয় তিনি বলেন, ইউটিউব থেকে টিউলিপ ফুল চাষের পদ্ধতি সংগ্রহ করেছি।ওই পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রথমে জমি প্রস্তুত করি। সমতল জমির চেয়ে একটু উচুঁ জমি টিউলিপ ফুল চাষের জন্য উপযোগী। প্রথমে জমি চাষ করে ওই জমিতে পানি সেচ দিয়ে গোবর সার এবং রাসায়নিক ইউরিয়া ও ডিওপি সার দিয়ে জমির মাটি উর্বর করে নিতে হয়। এরপর প্রস্তুত করা জমিতে টিউলিপ ফুলের চারাগুলো রোপন করা হয়। সপ্তাহে দু’দিন সেচ দেয়। নিজে এবং দু’জন শ্রমিক নিয়ে এখন পর্যন্ত টিউলিপ বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা করছি। বাগানের চারদিকে বেড়া দেওয়া রয়েছে।
এদিকে হাছিনুর রহমানের টিউলিপ বাগান পরিদর্শন করেছেন কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার মাহাবুব রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন কুমার শাহা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন চাষ সম্পর্কে। এ ব্যাপারে বোচাগঞ্জ কৃষি বিভাগ জানায়, একজন জনপ্রতিনিধি টিউলিপ চাষ করছেন জেনে আনন্দিত। এরইমধ্যে টিউলিপ ফুল ফুটতে শুরু করেছে। টিউলিপের প্রায় ১৫০টি জাত রয়েছে। যার মধ্যে বর্তমানে পাঁচ প্রজাতির চাষ হচ্ছে এখানে। সার্বিকভাবে এটি তদারকি করবো। ভবিষ্যতে টিউলিপের চাষ আরও বাড়ানো হবে। উদ্যোক্তা হাছিনুর রহমান ইউটিউব থেকে টিউলিপ ফুল চাষের পদ্ধতি সংগ্রহ করে ওই পদ্ধতি অনুযায়ী চাষ করেছেন। কৃষিবিভাগের পরামর্শে টিউলিপ ফুল চাষে সফল হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ