যতদূর দৃষ্টি; ততদূর সবুজ পাতার সমারোহ। নদীর চরে এলেই দেখা মিলবে এমনই আলু চাষের দৃশ্য। ভোরের কুয়াশা কাটতে না কাটতেই আলু ক্ষেতে শুরু হয় কৃষকদের আনাগোনা। এবার নদীর চরে আলু চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
উত্তরের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলা নওগাঁ। এবার এ জেলার সমতল জমির পাশাপাশি আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর চরে শত শত বিঘা জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। আর এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এসব নদীর চরে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। তাই শীতকে উপেক্ষা করে ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা।
জেলার বদলগাছী উপজেলার বালুভরা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট যমুনা নদী। নদী ভাঙনের পর বর্তমানে নদীর বুকে চর জেগেছে। এ চরে এখন পলি পড়ে হয়েছে বেলে-দোঁআশ মাটি। ফলে এলাকার কৃষকরা এখন নদীর চরে আলু চাষ করছেন। অন্য জমিতে যেখানে বিঘা প্রতি ৯-১০ হাজার টাকা খচর ও বিঘা প্রতি ৫০ মণ হারে ফলন হয়, সেখানে চরের মাটিতে ২-৩ হাজার টাকা কমে ৭০-৮০ মণের মতো ফলন হয়ে থাকে।
এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, এখন যেখানে আলু চাষ করা হচ্ছে, গত ১৫-২০ বছর আগে সেখানে আবাদি জমি ছিল। নদী ভাঙনের ফলে সেগুলো ভেঙে এখন চর হয়ে গেছে। গত ৩-৪ বছর ধরে এ চরে আলু চাষ করা হচ্ছে।
কৃষক জুয়েল হোসেন, ইসরাফিল হোসেন, জুলফিকার আলী ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতি বছর আলুর পেছনে কীটনাশকে প্রায় ৩ হাজার টাকার মতো খরচ করতে হতো। এ বছর রোগ না থাকায় বিঘা প্রতি প্রায় হাজার টাকার মতো কীটনাশক কম কিনতে হয়েছে। এছাড়া চরের মাটিতে হাল চাষ, সার ও ওষুধ কম লাগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন ক্ষতি না হলে আলুর ভালো ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। বালুভরা গ্রামের কৃষক সুলতান হোসেন বলেন, নদীর চরে আলুর জমিতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। রোগ বালাই কম আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নদীর চরে আলু চাষ করে ভালো ফলন পাবে। আর এই আলু কার্তিক মাসে লাগানো হয় আর বাজারজাত উপযোগী হয় ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এসব নদীর চরের আলু বিঘা প্রতি ৮০ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদীর চরে আলুর ফলন ভালো হওয়ায় আলু চাষে ঝুঁকছে নওগাঁর কৃষকরা। আর দাম বেশি পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা। কারণ নদীর চরের জমি উর্বর হওয়ায় ফলন ভালো হয়। এ জেলায় প্রতি বছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়ে থাকে। জেলায় ছোট যমুনা, আত্রাই ও পূর্নভবা এ তিন নদীর চরে ২৭১ হেক্টর জমি রয়েছে। এসব চরে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন