নিশি নতুন জামা পরেছে। ওকে কেমন লাগছে দেখার জন্য আয়নার দিকে তাকাল। ওমনি চমকে উঠল! আয়নার ভিতর নিশি দাঁড়িয়ে আছে। ও পুরোনো জামা পরেছে। এ কী করে সম্ভব? নিশি ভয়ে চোখ বন্ধ করল। ওমনি আয়নার ভিতরের নিশি বলল, চোখ খুলো। দেখো আমাকে। নিশি ভয়ে ভয়ে চোখ খুলল। কিন্তু আয়নার দিকে তাকাল না। ওর পরনের জামার দিকে তাকাল। কী সুন্দর চকচকে নতুন জামা। নিশি মনে মনে বলল, হয়তো আমার মনের ভুল। আজই তো জামাটা উপহার পেলাম। আব্বু-আম্মু আমাকে অনেক ভালোবাসেন।
নিশি আবার আয়নার দিকে তাকাল। ওমনি শিউরে উঠল! আয়না ঘোলা হয়ে গেছে। যেন আয়নার ভিতরে কেউ কাঁদছে। নিশি একটু সাহস করে আয়না মুছল। ওমনি আয়নার ভিতরের নিশি আবার দেখা দিল। ওর চোখ দুটো কান্নায় ভেজা। নিশি মায়াভরা কণ্ঠে বলল, তুমি কাঁদছ কেন? আমাকে বলো। আয়নার ভিতরের নিশি এবার হাসতে লাগল। কী করুণ সেই হাসি! সেই হাসিতে ঘর কাঁপতে লাগল। নিশি এক পা, দুই পা করে পিছিয়ে যেতে লাগল। আয়নার ভিতরের নিশিও এক পা, দুই পা করে পিছিয়ে এলো। যেন এক্ষণি ও আয়নার ভিতর থেকে বাইরে চলে আসবে। নিশি এক দৌড়ে দরজার কাছে ছুটে গেল।
হঠাৎ বাতাসে দরজা বন্ধ হয়ে গেল। নিশি কাঁপতে কাঁপতে বলল, তুমি ঠিক আমার মতোই দেখতে। তাহলে কেন আমাকে ভয় দেখাচ্ছ? কেনই বা আমি তোমাকে পুরোনো জামা পরা দেখতে পাচ্ছি? আয়নার ভিতরের নিশি করুণ কণ্ঠে বলল, আমার নামও নিশি। কিন্তু তোমার মতো আমার নতুন জামা নেই। তাই পুরোনো জামা পরেছি। তোমার অনেক জামা আছে। তবু আব্বু-আম্মুর কাছে বায়না ধরো। আমার কথা ভাবো না। আমি সবাইকে দেখা দেই না। যাদের পছন্দ করি শুধু তাদেরই দেখা দিই। নিশি মন খারাপ করে বলল, তুমি ঠিকই বলেছ। আমি এভাবে কখনো ভাবিনি। আচ্ছা তোমাকে নতুন জামা দেব কী করে? তুমি তো আয়নার ভিতরে থাকো।
আয়নার ভিতরের নিশি দুঃখী মুখ করে বলল, আশপাশে আমার মতো অনেকেই আছে। ওদের দিলেই আমি পেয়ে যাব। আয়নার ভিতরের নিশি এই বলে হাসতে লাগল। ঠিক তখনই ঝনঝন শব্দ করে আয়না ভেঙে গেল। কোথা থেকে একটি নতুন আয়না চলে এলো। নিশি আয়নার দিকে তাকাল। আয়নায় এবার নিজেকেই দেখল। ওর ঠোঁটে ফুটে উঠল আনন্দময় হাসি।