আজ সুপ্তি খুব ভোরেই ঘুম থেকে উঠেছে।
বড় আপুর সঙ্গেই শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবে। অনেক ফুল তুলেছে, লাল জবা, গোলাপ ও গাঁদা ফুল দিয়ে মালা গেঁথে রেখেছে।
বড় আপু কলেজে পড়ে।
সুপ্তি, সদ্য পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী শেষ করেই একই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।
বড় আপু, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক কিছুই জানে। আমাদের মুখের ভাষা, মায়ের ভাষা, প্রাণের ভাষার দাবিতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে রফিক, শফিক, জব্বারসহ বহু তরতাজা প্রাণ অকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
এসবই সুপ্তি বড় আপুর কাছ থেকেই জানতে পেরেছে।
১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের লোমহর্ষক ইতিহাসের কথা সুপ্তি তার দাদুর মুখেও শুনেছে।
দাদু, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথাগুলো যখন বলেন, তখন কিছুটা কেঁদে ফেলেন।
ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি- একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।
সুপ্তি বড় আপুর কাছে প্রশ্ন করে বলল : আপু, ওই শহীদ মিনারটি কীসের প্রতীক?
আপু বলল : শহীদ মিনারের পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে। প্রতিটি স্তম্ভ এক একটা, দুঃখ-বেদনার ছবি!
তুমি বড় হয়েই সব কিছুই জানতে পারবে।
তবে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি সারা বিশ্বেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
সব দেশেই জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
ভাষাশহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, সরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাড়ম্বরে একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয়।
ঢাকায় মাসব্যাপী জাতীয় গ্রন্থমেলা শুরু হয়। বিদেশেও সাড়ম্বরে একুশে ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
দেশের সব পত্রপত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়।
সাহিত্য সাময়িকীতে তুলে ধরা হয় একুশের বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি।
সুপ্তি, গুছিয়ে নাও? আমরা এবার স্কুলের দিকে রওনা হব!
আজ যে খালি পায়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে হবে।
তারপর প্রভাতফেরিতে যেতে হবে?
সুপ্তি বলল, হ্যাঁ! হ্যাঁ! আপু : আমিও প্রভাতফেরিতে যাব?
সবার সঙ্গেই, সুরে সুর মিলিয়ে আমিও গাইব, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?
সুপ্তি, এবার পা থেকে জুতো জোড়া খুলে ফুলের মালা ও ফুলগুলো নিয়েই বড় আপুর পিছনে পিছনে নগ্ন পায়ে হেঁটে চলল।