ফেনীর দাগনভূঞায় ছাত্রদলের মিছিলে বাধা প্রদান ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে দাগনভূঞা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে গজারিয়া রাস্তার প্রবেশ মুখ থেকে ছাত্রদল একটি মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন জিরো পয়েন্ট থেকে একটি গ্রুপ লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে মিছিলের জন্য জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর শুরু হয় দুই গ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ।
জানা যায়, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হক রাজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। অপরদিকে একই সময় কলেজ রোড থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশ্রাফুল ইসলাম জাবেদ ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মাসুমের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল আসলে অন্তত দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এই বিষয়ে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম মিলন জানায়, দাগনভূঞাতে ছাত্রদল মিছিলের বিষয়ে কোন বিধিনিষেধ নেই। বিএনপির কমিটি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে তাই বিএনপির একটি সমাবেশ বন্ধ করেছে জেলা বিএনপি। তবে ছাত্রদলের মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে পারবেনা এমন কোন নির্দেশনা আমরা জেলা ছাত্রদল দিইনি। ছাত্রদলের মিছিলে বাধার ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের বিষয়ে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংঘর্ষের ঘটনায় জেলার সহকারি পুলিশ সুপার (দাগনভূঞা-সোনাগাজী সার্কেল) তসলিম হোসাইন বলেন, সভা-সমাবেশ, মিছিল করা প্রত্যেক দলেরই সাংবিধানিক অধিকার। আমরা মনে করি রাজনৈতিক দলগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে এবং জনগণের ভোগান্তি না করে তারা শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কর্মসুচি করবে। তাদের দলীয় কোন কোন্দল থাকলে তা দলের জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সামাধান করবেন। কিন্তু তা না করে তারা বাজারে বা যে কোন স্থানে একপক্ষের মিছিলে অন্যপক্ষ হামলা করে আইনশৃংঙ্খলার অবনতি ঘটালে এবং জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করলে আগামীতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তা কঠোরভাবে দমন করবে বলে জানান তিনি।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন