দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার অধিকাংশ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কিডনি চিকিৎসা সহজলভ্য করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষের কার্যকর উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের উদ্যোগে কিডনি বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কিডনি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বৈজ্ঞানিক সেমিনার, আলোচনা সভা, র্যালি, হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
পরে চমেকের নতুন একাডেমিক ভবনের নিচতলার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় বৈজ্ঞানিক সেমিনার। চমেক হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চমেকের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইমরান বিন ইউনুস, চমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চমেকের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুর রব, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ কাসেম, অধ্যাপক ডা. এ এম এম এহতেশামুল হক, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী মো. মনোয়ারুল করিম বাবর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডা. মো. ফয়েজুর রহমান, প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন ডা. রোসান্না বিনতে কামাল, কিডনি রোগ বিভাগের বিগত বছরের কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেন হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মেরিনা আরজুমান্দ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মাহতাবুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শফিউল হায়দার রুশনী ও ডা. রফিকুল হাসান।
প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান উপায় হলো ডায়ালাইসিস। কিন্তু চট্টগ্রামের মতো বড় শহরেও ডায়ালাইসিস সেন্টারের সংখ্যা সীমিত। এতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেকে সময়মতো চিকিৎসা পান না। চসিক নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায়, তাই আমরা চাই নগরীতে ডায়ালাইসিস সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে কম খরচে বা বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও এ বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
মেয়র বলেন, সাধারণ মানুষকে কিডনি রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে জানাতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি পান করার গুরুত্ব বোঝাতে হবে। শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/এএম