চট্টগ্রাম ওয়াসায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগ পেয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানে চার সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দেন দুদক জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান।
এ সময় দুদকের টিম ওয়াসা সচিব ও স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ওয়াসা পরিদর্শনের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইমরান।
অভিযানে ওয়াসায় লোকবল নিয়োগে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহর স্বজনপ্রীতি, ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকার স্যুয়ারেজ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রকল্পটির ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ফাটল, প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ওয়াসা ভবনে পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে নথি গায়েব এবং সাবেক এমডির ভাগ্নে বউকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রকল্পের পরিচালক করার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়।
সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল, হালিশহরে ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান স্যুয়ারেজ প্রকল্পের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মধ্যে ফাটল দেখা দেওয়া, সেখানে নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সকালে আমরা সরেজমিনে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে অনেকগুলো ফাটল দেখতে পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি আমাদের বলেছেন, প্ল্যান্টে ফাটলের বিষয়টি আমি অবগত। এ নিয়ে প্রকল্পের কনসাল্টেড ফার্মের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাটল সিল করার জন্য যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হবে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, এখনো রিপোর্ট পাননি। রিপোর্টে রাসায়নিক যথাযথ পাওয়া গেলে ফাটলগুলো সিল করা হবে।
নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি খালি চোখে দেখে বুঝার উপায় নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞরা বলতে পারবেন। তবে ফাটল দেখা গিয়েছে। এটি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে অথবা পারিপার্শ্বিক কারণেও হতে পারে।
পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে সাবেক এমডির বিরুদ্ধে ফাইল গায়েবের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক এমডি দীর্ঘ ১৫ বছর দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্বকালে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। ২০২০ সালে ওয়াসা ভবনের তৃতীয় তলায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনাটি সাজানো ছিল- এমন অভিযোগ এসেছে। যেখানে অনেকগুলো নথি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গায়েব করা হয়েছে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা জানতে চেয়েছি। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির একটি তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের দেওয়া হয়েছে। এটি আমরা বিস্তারিত স্টাডি করে বলতে পারবো।
অভিযানে অনিয়মের সুনির্দিষ্ঠ কোনো তথ্য প্রসঙ্গে সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান বলেন, কিছুটা অনিয়ম তো আছে। নিয়োগ সংক্রান্ত একটি তথ্য পেলাম। আরও কয়েকজন স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও তথ্য আছে। এটা আসলে রেকর্ডপত্র যাচাই করে বলতে পারবো। অনিয়ম হলে আমরা যথাযথ নিয়মে ব্যবস্থা নেব।
বিডি প্রতিদিন/এএ