মুলার বীজে ৭ গুণ লাভ পাচ্ছে কৃষক। এতে কুমিল্লা অঞ্চলে বাড়ছে মুলার বীজ উৎপাদন। চলতি বছর কুমিল্লা অঞ্চলের তিন জেলায় প্রায় ৫শ‘ বিঘা জমিতে মুলা বীজের চাষ হয়েছে। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। বাকি বীজের চাষ হয়েছে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলায়। এদিকে ভালো মুল্য পেয়ে খুশি কৃষকরা। তাই আগামী এই চাষ আরো বাড়বে বলে ধারণা কৃষি কর্মকর্তাদের।
কুমিল্লা অঞ্চল কৃষি অফিসের সূত্র জানায়, নবীনগর উপজেলায় এই মৌসুমে প্রায় ৩৫০ বিঘা জমিতে মুলা বীজ চাষ হয়েছে। নবীনগর উপজেলার শিবপুর, কাইতলা উত্তর, নাটঘর ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে মুলা বীজ উৎপাদন হচ্ছে। মুলা বীজ আবাদে বিঘা প্রতি কৃষকদের খরচ পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। এক বিঘায় উৎপাদিত হয় ৪ থেকে ৫ মণ মুলা বীজ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৫হাজার টাকা থেকে ৪০হাজার টাকা। সাধারণত অক্টোবর শেষ দিকে মুলা বীজ উৎপাদন করার জন্য জমি প্রস্তুত করা হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ সময়ে উত্তোলন করা হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নবীনগরের সাহারপার,ধনাশি,ইসলামপুর,ওয়ারুক,মিরপুর,শিবপুর গ্রামের মাঠে মুলার বীজ হাসছে। সেখানে চিনা মুলা,আউশ মুলা,দানা মুলা,শিব্বুইরা মুলা বা লাল মুলার বীজ চাষ করা হচ্ছে।
সাদা ফুলে চারপাশ ছেয়ে গেছে। ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছি। শিবপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাঠে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
সাহারপাড় গ্রামের কৃষক খায়রুল ইসলাম ও চিনু মিয়া বলেন,এখানে সেচের সুবিধা কম। তাই মুলার বীজের চাষ করি। এই ফসলে ধান গম থেকে বেশি লাভ মিলে।
নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন বলেন, অল্প সময়ে লাভজনক ফসল হিসেবে এই ফসলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এই মুলা বীজ বাজারজাত হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।
অনলাইন বীজ ব্যাংকের এডমিন তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের কুমিল্লা ও চাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মুলার বীজ উৎ’পাদনের বিষয়টি জানা নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিছু চাষ হয়।
কুমিল্লা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, নবীনগরের মুলার বীজ স্থানীয় চাহিদা মেটাচ্ছে। কুমিল্লা অঞ্চলে মুলার বীজের চাষ ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি।
বিডি প্রতিদিন/এএম