ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের লিগ বর্জনের হুমকিতে প্রস্তাবিত সংশোধনের গঠনতন্ত্র স্থগিত করে বিসিবি। ক্রিকেট বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে ক্লাবগুলো তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়। ক্লাবগুলোর এমন সিদ্ধান্তে ফের মাঠে গড়াচ্ছে ঢাকার ক্রিকেট। বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ২০ দলের প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের প্রথম পর্ব শেষ হতেই ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে প্রিমিয়ার ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম)-এর। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন সিসিডিএমের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী, ‘আমরা ক্লাবগুলো বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি লিগ শুরুর। প্রথম বিভাগ লিগ শুরু হবে বৃহস্পতিবার সিলিকন ভেন্যুতে। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’
গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব কমিটি বাতিল করায় ক্রিকেট মাঠে ফিরেছে। কিন্তু ক্রিকেটাররা কি স্বস্তি পাচ্ছেন? কারণ, ঢাকা প্রথম বিভাগের বহু ক্রিকেটারের গত মৌসুমের পারিশ্রমিক বাকি রয়েছে। সে বকেয়া পারিশ্রমিক কি পাবেন ক্রিকেটাররা? বিসিবির সাবেক যুগ্মসম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু বকেয়া পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে বলেন, ‘পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার কথা আমরা শুনেছি। আমরা চেষ্টা করব ক্রিকেটাররা যেন সেটা পেয়ে যান।’ ঢাকার ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। বিপিএলও এর বাইরে নয়। তার পরও দেশের ক্রিকেট বর্তমান অবস্থানে নিয়ে আসার মূল কারিগর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট। প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে ক্লাব পরিচালকের সংখ্যা ১২ থেকে কমিয়ে ৪ করার প্রস্তাব ছিল। শুধু তাই নয়, ৭৬ কাউন্সিলর থেকে সংখ্যা ৩০-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল সংশোধিত গঠনতন্ত্রে। এর পরই ক্লাবগুলো কঠোর অবস্থানে যায়। বিসিবি ক্লাবগুলোর অনড় অবস্থানে বাধ্য হয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কমিটি বাতিল করে। ক্লাবগুলোর পক্ষে বিসিবিকে এজন্য ধন্যবাদ জানান রফিকুল ইসলাম বাবু, ‘গঠনতন্ত্র সংশোধিত কমিটি বাতিল করায় বিসিবিকে ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।
ক্রিকেট দেশের মানসম্মান বৃদ্ধি করেছে। ক্রিকেটের আজকের পর্যায়ে আসার পেছনে অবদান ক্লাবগুলোর। আমরা সারা দেশে ক্রিকেট আয়োজনের পক্ষে। ক্লাবগুলোর বাইরে যারা সারা দেশ থেকে পরিচালক হয়েছেন বা হবেন, তাদের উচিত ক্রিকেট আয়োজন করা। যদি আয়োজন করতে না পারেন, তাহলে তাদের বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। এ ছাড়া আমরা ক্লাব পরিচালকের সংখ্যা ১২ থেকে ১৬ করার প্রস্তাব দিয়েছি। নতুন কমিটি গঠন করা হলে সেখানে বিসিবি, ক্লাব, আম্পায়ার্স কমিটি থেকে প্রতিনিধি রাখা উচিত।’
সংবাদ সম্মেলনের পর ক্লাব কর্মকর্তারা বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন বেশ কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে। বিসিবি সভাপতি সেসব দাবির কয়েকটি মেনে নেন এবং বাকিগুলো পূরণে আশ্বাস দেন।