আওয়ামী সরকারের পতনের পর বিসিবিতে পরিবর্তন এসেছে। যদিও বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়নি। অবশ্য বিসিবি সভাপতির পদ থেকে নাজমুল হাসান পাপন পদত্যাগ করেছেন। নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। ভেঙে দেওয়া না হলেও পরিচালনা পর্ষদের ১০-১২ জন পরিচালককে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় নাজমুল আবেদীন ফাহিম ছাড়া আর কোনো পরিচালক নেওয়া হয়নি। বিসিবির বর্তমান কমিটির মেয়াদকাল চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। বিসিবির কাউন্সিলরদের ইজিএমে প্রস্তাবিত নতুন গঠনতন্ত্র উত্থাপিত হবে। তার আগে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে পাস হতে হবে। প্রস্তাবিত সেই গঠনতন্ত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিসিবির পাঁচ সদস্যের গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিসিবির গঠনতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধন আনা হচ্ছে এমন নয়। সংশোধনের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। প্রায় গুছিয়েও এনেছি। বিসিবির কাউন্সিলরদের ইজিএমে তোলা হবে প্রস্তাবিত সংশোধিত গঠনতন্ত্র। সেখানে কাউন্সিলররা চূড়ান্ত করবেন।’
২০২৪ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সভাপতিসহ পরিচালকদের মোট সংখ্যা ছিল ২৫।
এবার প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে সেটা কমিয়ে ২১ করা হচ্ছে। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ক্লাব কর্তৃত্ব কমানো হচ্ছে। বিসিবির ২০২৪ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের ক্যাটাগরি-২-এ ক্লাব পরিচালক সংখ্যা ছিল ১২ জন। প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে সেটা কমিয়ে চার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্লাব পরিচালক কমানোর পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে ক্যাটাগরি-১ ও ক্যাটাগরি-৩-এর পরিচালক সংখ্যা। ২০২৪ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ক্যাটাগরি-১-এ পরিচালক ছিলেন ১০ জন। এবার প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে সংখ্যা তিনজন বেড়ে ১৩ জন করা হচ্ছে। একজন করে পরিচালক বাড়ছে ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের। বর্তমান গঠনতন্ত্রে ঢাকা বিভাগের পরিচালকের সংখ্যা দুজন। প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে সেটা হচ্ছে তিনজন। দুজন করে পরিচালক হবে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর এবং একজন করে থাকবেন বরিশাল ও সিলেট থেকে। রংপুর ও রাজশাহীর পরিচালক সংখ্যা একের পরিবর্তে দুজন করা হচ্ছে। ক্যাটাগরি-৩-এ বাড়ছে পরিচালক। বর্তমান গঠনতন্ত্রের ক্যাটাগরি-৩-এর পরিচালক সংখ্যা তিনজন। প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে সংখ্যাটি চারজন।
বর্তমান গঠনতন্ত্রের যে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা হচ্ছে, এর জন্য নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব মো. সাইফুল ইসলাম। বাকি তিন সদস্য হচ্ছেন- বিসিবির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মো. কামরুজ্জামান, ব্যারিস্টার শেখ মাহদি ও এ কে এম আজাদ হোসেন। এ কমিটির প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র প্রথমে পাঠানো হবে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদে। সেখানে যাচাইবাছাই করা হবে। পরিচালনা পর্ষদে পাস করার পর ইজিএমে পাঠানো হবে। সেখানে পাস হলেই বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র হিসেবে পরিগণিত হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ক্লাব পরিচালকদের সংখ্যা কমানো হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্লাব সংগঠকরা। বিসিবির সাবেক পরিচালক ও আবাহনী ক্লাবের অন্যতম ক্রিকেট সংগঠক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ক্যাটাগরি-২-এ ঢাকার ক্লাবগুলোর ১২ জন পরিচালকের যে সুযোগটা ছিল, সেটা কোনো কাকতালীয় বা মনগড়া নয়। এমনকি জোর করেও নয়। বাস্তবতার নিরিখে করা হয়েছিল। গত ৫০ বছরে দেশের ক্রিকেটে ক্লাবগুলো যে ইনভেস্ট করেছে, সেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। একটি তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ক্রিকেটের প্রতি যে সময় ব্যয় করে, সেটা কোনো জেলা করতে পারে না। দেশের ক্রিকেটকে এ পর্যায়ে আনতে ক্লাবগুলোর অবদান সবচেয়ে বেশি। প্রস্তাবিত নতুন গঠনতন্ত্রে ক্লাব পরিচালক কমিয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেটা হবে অন্তর্ঘাতমূলক সিদ্ধান্ত। আমার বিশ্বাস এ পরিকল্পনা কেউ গ্রহণ করবে না এবং বাস্তবায়নও হবে না। প্রতিবছর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে খরচ হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। যদি পরিচালক সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়, তাহলে স্পন্সরদের আগ্রহ কমে যাবে ক্লাব ক্রিকেটে।’ বাংলাদেশ বয়েজের ক্রিকেট চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান তপু বলেন, ‘ক্লাব পরিচালক কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে ক্রিকেটকে আবারও আতুরঘরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র সহসাই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে উত্থাপিত হবে। কমিটি বেশ জোরেশোরেই এ নিয়ে কাজ করছে।