মুসল্লিদের পদচারণে মুখরিত এখন বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আজ বাদ ফজর শুরু হয়েছে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ। শুরায়ি নেজামের তত্ত্বাবধানে পাকিস্তানের মাওলানা জিয়া উল হকের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে আজ ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তুরাগের এপার-ওপার, তাঁবুর ভিতর বাইরে মিলিয়ে এবার ১০৪টি খিত্তায় (জেলাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান স্থল) ইজতেমা পরিচালিত হচ্ছে। আজ সকাল ১০টায় শুরু হবে খিত্তাওয়ারি তালিমের আমল। এর পর বৃহত্তর জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা জুবায়ের। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশি মেহমান তাবলিগ অনুসারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইস্তেমায়ি সামানা নিয়ে গত বুধবার থেকেই ইজতেমা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেছেন। তারা নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। সব দিকে থেকে ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের প্রবেশের সুবিধার্থে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে পাঁচটি ও বিআইডব্লিউটিএ একটি ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণ করে দিয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক ৪৫০টি মাইক স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের বরাবরের মতো এবারও ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়ে ইস্তেমার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গতকাল বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে বয়ান। আগামী রবিবার ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম ধাপের ইজতেমা।
টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই : র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঝুঁকি নেই। দুই পক্ষের অন্তর্কোন্দল ছাড়া আপাতত অন্য কোনো ঝুঁকি আমরা দেখছি না। ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার তার সবগুলোই ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন শেষে র্যাবের কন্ট্রোলরুমে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইজতেমায় মুসল্লিদের যাতায়াতে ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন : টঙ্গীতে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিভিন্ন রুটে সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল-টঙ্গী স্পেশাল-১ হিসেবে টাঙ্গাইল থেকে শনিবার দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল-টঙ্গী-ঢাকা রুটে ট্রেন চালানো হবে।
আখেরি মোনাজাতের দিন ওই রেক দিয়ে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে জয়দেবপুর কমিউটার-১ এর পরিবর্তে মোনাজাত স্পেশাল হিসেবে টঙ্গী পর্যন্ত ট্রেন চালানো হবে। এরপর জয়দেবপুর কমিউটার-১ হিসেবে ট্রেনটি টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর এবং জয়দেবপুর কমিউটার-২ হিসেবে জয়দেবপুর থেকে ঢাকায় ফিরবে। পরে জয়দেবপুর কমিউটার-৩ ট্রেনটি ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত চালিয়ে দুপুর ১২টায় রুট বাড়িয়ে টঙ্গী থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ‘টঙ্গী-টাঙ্গাইল স্পেশাল-২’ হিসেবে চালানো হবে।