রাজধানী ঢাকার বাতাসে ভয়াবহ দূষণ। এ কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যা, অ্যাজমা, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, বন্ধ্যত্ব, চোখের সমস্যা, এমনকি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ পর্যন্ত ডেকে আনছে।
প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ক্ষতিকর অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম- ২.৫) পাঁচ মাইক্রোগ্রামের মধ্যে থাকলে তাকে স্বাস্থ্যকর বলা হয়। গতকাল রাজধানীর অনেক স্থানের বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা ছিল ৩০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি। অর্থাৎ, ৬০ গুণ দূষিত পদার্থে ভারী ছিল বাতাস। বায়ুর এই মান দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা-আইকিউ এয়ারের তথ্যমতে, গতকাল সকালে বিশ্বের ১২৪টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকা ছিল তৃতীয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সার্বিক বায়ুমান সূচকে (একিউআই) ঢাকার স্কোর ছিল ২৪৪। সূচক ২০০ পার হলেই সেখানকার বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০ পার হলে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গতকাল সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এলাকায় একিউআই স্কোর ছিল ৪৫১। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে দূষণের মূল উপাদান অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা ছিল ৩০১ মাইক্রোগ্রাম। এ ছাড়া ইস্টার্ন হাউজিং-২ এলাকায় ৪০৬, সাভারের হেমায়েতপুরে ৩৫৮, কল্যাণপুরে ৩৫৮ ও গুলশান লেক পার্ক এলাকায় একিউআই স্কোর ছিল ৩১৬। বিকাল ৫টায় ঢাকা ও আশপাশে সর্বোচ্চ দূষিত পাঁচটি এলাকা ছিল যথাক্রমে সাভারের হেমায়েতপুর, মার্কিন দূতাবাস, ইস্টার্ন হাউজিং-২, কল্যাণপুর ও তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে অবস্থিত শান্তা ফোরাম এলাকা। এই এলাকাগুলো দূষণের শীর্ষে থাকছে অধিকাংশ সময়।
বায়ুদূষণের এমন পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে আইকিউ এয়ার। এ ছাড়া খোলা স্থানে ব্যায়াম না করা ও ঘরের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুদূষণের প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ। সব জায়গায় বায়ুমান পরিমাপক যন্ত্র না বসানোয় বিষয়টা সামনে আসছে না।