তিন দিনের সফরে আজ বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তার আগে একই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূত। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, ব্যবসাবাণিজ্য, ঋণ সুবিধা, জনশক্তি রপ্তানিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
গতকাল সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্র সচিব এম জসীম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ায় কৃষি, জাহাজনির্মাণশিল্প, আতিথেয়তাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ভিসাপদ্ধতি সহজীকরণসহ বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহী রাশিয়া। তার আগে এ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়া চুক্তি করতে চায়। তিনি আরও বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের কাজ সময়মতো সমাপ্তি হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টাকা পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুতই কেটে যাবে। স্থানীয় মুদ্রাসহ সার্বিক সম্পর্কের বিষয়ে ইতিবাচক রয়েছে উভয় দেশ।
গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে কখনো চিড় ধরবে না। এ সম্পর্ক আরও গভীর হবে। চীন সবসময় বাংলাদেশে বন্ধু হিসেবে থাকবে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে চীন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব চুক্তির প্রস্তাব ছিল, সেগুলোর ব্যত্যয় ঘটবে না। বাংলাদেশের মানুষকে সার্বিক সহযোগিতায় করতে চায় চীন। বাংলাদেশের জন্য ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি তাঁর সরকার বিবেচনা করছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভারতের বিকল্প হিসেবে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে চারটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করার জন্য চীনকে অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য চীনকে জমি দিতে প্রস্তুত আছে বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এদিকে গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্র্যাসি এন জ্যাকবসন। তাদের মধ্যে পৃথক বৈঠক চলে ঘণ্টাব্যাপী। সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়েন তিনি। বাংলাদেশে পিটার হাসের উত্তরসূরি হিসেবে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত না আসা পর্যন্ত সাবেক কূটনীতিক ট্র্যাসি ঢাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। ১১ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন ট্র্যাসি।