পাঁচ জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার চলতি ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ-সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের অধীন পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক মেয়াদি হিসাবের সুদের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ বছর ও দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সঙ্গে সংগতি রেখে উল্লিখিত পাঁচটি সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার বছরে দুইবার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। বিনিয়োগকারী ইস্যুকালীন সময়ে বিদ্যমান মুনাফার হার, বিনিয়োগকালের পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রাপ্য হবেন অর্থাৎ যে মেয়াদের জন্য তা ইস্যু করা হয়েছিল, সে মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত একই হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে। এত দিন ধরে তিন ধাপে সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করা হতো। ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি সুদ পেতেন। এরপর ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এক ধরনের সুদহার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে আরেক ধরনের সুদহার ছিল। অর্থাৎ যত বেশি বিনিয়োগ, তত কম সুদহার ছিল।
অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণিকে সমতা প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের বিনিয়োগকারীদের পূর্বের তিনটি ধাপের পরিবর্তে নতুন দুটি ধাপে (৭.৫০ লাখ টাকা ও এর নিচে এবং ৭.৫০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে) ভাগ করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বের মতো বিনিয়োগের মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নের ক্ষেত্রে বছরভিত্তিক হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে। মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রান্তিক বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন এবং জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে মহিলা, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, পেনশনার বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। সঞ্চয় স্কিম-সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্তের ফলে অধিকতর কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।