শীতকালে অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে লক্ষ্মীপুরের জনেশ্বর দিঘি। প্রায় দুই একরের এ দিঘি এখন মুখর হাজারো পাখির কলকাকলিতে। প্রতি বছরের মতো এবারও শীত মৌসুমের শুরুতেই দিঘিতে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। দিনরাত পাখির কিচিরমিচির ও জলকেলিতে পুরো এলাকা এখন মুখর। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ঝাঁক বেঁধে দিঘিতে নামছে-উঠছে, ডানা মেলে আকাশে ওড়াউড়ি করছে এসব পাখি। দিঘির পাড়ে বসে পাখির এই জলকেলির নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমীরা।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদরের হাজিরপাড়া থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর জয়পুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই জনেশ্বর দিঘি। বিখ্যাত এক হিন্দু জমিদারের নামে নামকরণ হয়েছে এ দিঘির। প্রায় দুই একরের (এক একর ৯৬ শতক) দিঘিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। তবে শীতকালে এটি অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। চারপাশে বাঁশঝাড়ে ঘেরা জনেশ্বর দিঘিতে অতিথি পাখির মধ্যে বালিহাঁস বেশি। দিঘিজুড়ে হাজার হাজার পাখির এ যেন এক মিলনমেলা। প্রায় এক যুগ ধরে পাখির আনাগোনা এখানে। তবে এবার পাখির সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানান স্থানীয়রা। সরেজমিন দেখা যায়, স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগেই সবাই মিলে পাখিদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। পাখির বিশ্রামে বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে দিঘির পাড়ে গড়ে তুলেছেন অভয়াশ্রম। মাঝে মাঝে দেওয়া হচ্ছে খাবারও। দর্শনার্থীরাও মজা করে দিচ্ছেন খাবার। পাখিরাও আনন্দে তা গ্রহণ করছে। দিঘির ইজারাদার ও স্থানীয় বাসিন্দা পরিমল দাস জানান, ২৫ বছর ধরে দিঘিটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন তিনি। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে অতিথি পাখি দলবেঁধে দিঘিতে চলে আসে। পাখিগুলো সারা দিন পানিতে থাকে। মাছের তেমন ক্ষতি হয় না। বরং পাখিদের বিচরণে অক্সিজেন তৈরি হয়, মাছ তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। মাঝে-মধ্যে পাখিদের জন্য সাধ্য অনুযায়ী কিছু খাবার (ভুসি) ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বসার জন্য (বিশ্রামের) শতাধিক বাঁশ কেটে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের সবাই নিজেদের মতো করে পাখিগুলো লালন করছেন বলে জানান তিনি। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিঘির পাড়ে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমীরা। এমন কয়েকজনের দেখা মেলে দিঘির পাড়ে। তারা জানান, এমন অসংখ্য পাখি একসঙ্গে আর দেখা হয়নি কখনো। দিঘির পাড়ে একটু বসে পাখি দেখে মনে অনাবিল আনন্দ ও শান্তি পাওয়া যায়। তবে দর্শনার্থীদের জন্য দিঘিটির পাশে তেমন বসার স্থান নেই। স্থানীয়রা বলছেন, পাখি ও ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপত্তায় এবং পর্যটনশিল্প বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে দিঘিটি। জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, জনেশ্বর দিঘিসহ একাধিক স্থানে অতিথি পাখির অভয়াশ্রমের খবর শুনেছেন তিনি। তবে এসব স্থানে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় পর্যটন স্পট করতে কিছুটা বাধা হলেও পাখিদের নিরাপত্তাসহ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।