অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্স। এ সময় আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, ‘নির্বাচনের দিনে বড় ধরনের উৎসব হবে, যেমন আমরা অতীতে দেখেছি।’ জবাবে মার্কিন সিনেটর পিটার্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি মসৃণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে।’
ঢাকা সফররত মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্স গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, পিটার্স অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করেন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কারে রাজি হলে সরকার ডিসেম্বরে নির্বাচন করবে। তবে দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংস্কারের বড় প্যাকেজ চাইলে কয়েক মাস পরেই সাধারণ নির্বাচন হবে।’
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারে সম্মত হলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই চার্টার দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।’
মার্কিন সিনেটর বলেন, ডেট্রয়েট শহরসহ মিশিগানে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পিটার্স বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়েও প্রচুর পরিমাণে ভুল তথ্য রয়েছে। এই ভুল তথ্যের কিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বর্ণ, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গত বছরের আগস্টে পরিবর্তনের পরে সংখ্যালঘুদের ওপর, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর আক্রমণগুলো রাজনৈতিকভাবে, ধর্মীয়ভাবে নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তবে তার সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস মার্কিন সিনেটরকে বাংলাদেশের শহর পরিদর্শনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রকৃত তথ্য জানতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও কর্মীদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আপনার সাহায্য দরকার। অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদেরকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে বলুন। এভাবে আমরা এই ভুল তথ্য প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি।
কাতারকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার : এপ্রিলের শুরুতে ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে কাতারকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল কাতারের রাষ্ট্রদূত আল-কাহতানি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা কাতারের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গভীর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি কাতারের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এবং তাদের কারখানাগুলো দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থানান্তরের আমন্ত্রণ জানান। কাতারের রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, কাতার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী। দেশটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস তাঁর সরকারের সংস্কার এজেন্ডা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে ঐকমত্য কমিশনের কাজ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্যাসসমৃদ্ধ উপসাগরীয় রাষ্ট্রে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি আগামী মাসে কাতার সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।