বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এখন সমালোচনা করলে গুম বা ক্রসফায়ারের ভয় নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কাজ নিয়ে আমরা সমালোচনা করি এবং করব, তার পরও ড. ইউনূসকে আমরা ব্যর্থ হতে দেব না। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে একটি গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জি এম রাজিব হোসেনের ‘দ্রোহের গ্রাফিতি; চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, মাসিক সরগম পত্রিকার সম্পাদক কাজী রওনক হোসেন প্রমুখ।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর ভারত সরাসরি হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে। তারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, এই পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্টে উসকানি দেওয়ার জন্য এখন তারা তাকে স্বাধীনতা দিচ্ছে। শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ভারত আবার সেটির পক্ষে অবস্থানও নিচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশের ওপর আরেকটি স্বাধীন দেশের এমন হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুরের সাবেক মেয়র বলছেন, তাদের যদি রাজনীতি করতে না দেওয়া হয় তাহলে কেউ শান্তিতে থাকতে পারবে না। অর্থাৎ, হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাদের এই সাহসটা কে দিচ্ছে? সেই সাহসটা দিচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে শেখ হাসিনা এবং হাসিনাকে সাপোর্ট দিচ্ছে তাদের পলিসি মেকাররা।
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই-আগস্টে দেশের ছাত্র-জনতার রক্তে দেশের রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল দেখেই এখন আমরা মুক্ত স্বাধীন বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। সবার সম্মিলিত এই ঐক্য যে কোনো মূল্যে সমুন্নত রাখতে হবে।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের দ্রুত একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না। তারা এখনো ভাবছে কোনো একটা বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরে আসবে।