দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর পর ভারতের রাজধানী দিল্লি জয়ের পথে রয়েছে বিজেপি। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গড়তে চলেছে মোদি-অমিত শাহের দল। এ নির্বাচনে নিজ আসন নয়াদিল্লিতে হেরে গেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ আসনে জয়ী হয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী প্রভেশ ভার্মা। এদিকে পরাজয় মেনে বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জনগণের রায় মেনে নিলাম। আমি বিজেপিকে এই বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। জনগণ তাদের যে কারণে ভোট দিয়েছেন, সে প্রত্যাশা তারা পূরণ করবে বলে আশা করছি।’ কেজরিওয়াল আরও বলেন, ‘গত ১০ বছরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে আমরা অনেক কাজ করেছি। আমরা শুধু একটি গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবেই ভূমিকা পালন করব না, বরং মানুষের মধ্যে থাকব এবং তাদের সেবা করে যাব।’
১৪ রাউন্ডের ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ৪ হাজার ৮৯ ভোটের ব্যবধানে প্রভেশ ভার্মার কাছে হেরে যান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কংগ্রেসের প্রার্থী সন্দীপ দীক্ষিত ৪ হাজার ৫৬৮ ভোট পেয়েছেন। এরই মধ্যে বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৮টিতে জিতেছে এবং ৪০টিতে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে আম আদমি পার্টি ৯টি আসনে জিতেছে এবং ১৩টিতে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস কোনো আসনেই এগিয়ে থাকতে পারেনি। দিল্লিতে সরকার গঠনের জন্য ৩৬টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। এ খবর লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লি আসনে ৫৬ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট গণনার গতি-প্রকৃতি ইঙ্গিত দিয়েছে, দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লি দখল করতে চলেছে বিজেপি।
এদিকে দিল্লি জয়ের পথে থাকা অবস্থায় বিজেপির সদর দপ্তরে উৎসবে ফেটে পড়েন দলের কর্মী-সমর্থকরা। আতশবাজি ফাটানোর পাশাপাশি মিষ্টি মুখ করানো হয়। জয়ের রেশ গিয়ে পড়ে দেশটির অন্য রাজ্যগুলোতেও। সেখানেও একইভাবে উৎসবে মেতে ওঠেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
জয়ের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘মানুষের শক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ! উন্নয়নের জয়, সুশাসনের জয়। বিজেপিকে এই বর্ণাঢ্য ও ঐতিহাসিক জনাদেশ দেওয়ার জন্য আমি আমার দিল্লির প্রিয় বোন ও ভাইদের প্রণাম জানাই। এই আশীর্বাদ পেয়ে আমরা সত্যিই বিনম্র এবং সম্মানিত। আমরা নিশ্চিত করে বলতে চাই যে, দিল্লির উন্নয়নে, জনগণের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দিল্লির যে প্রধান ভূমিকা রয়েছে তা নিশ্চিত করতে আমরা কোনো কসুর করব না।’