জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ও নির্বাচনের সুফল পেতে হলে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। এ বছরের যে কয় মাস বাকি রয়েছে তা নির্বাচন আয়োজনের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছি না।
গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। হামিদুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা শুধু রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তিন মাসই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু পাবলিক ডিমান্ডের ভিত্তিতে এ সরকার তার রুটিন ওয়ার্কের বাইরে অনেক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যেই আবার অনেক নতুন নতুন দাবি নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে যাচ্ছে। গত ১৬ বছরের খুন, গুম, হত্যাকাণ্ড; বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের যে হত্যাকাণ্ড তার বিচার হতে হবে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার এবং যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারও সরকারকে করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এর আগে যে কয়টি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল সেগুলো থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। অন্যান্য অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তুলনা করে যারা বলেন, এ সরকারের পক্ষে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব সেই কথার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
হামিদুর রহমান বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনটা এসেছে সেখানে অনেক ইস্যু রয়েছে। অনেক দিন ধরে বহু বৈষম্য এবং আইন ও বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। যে লক্ষ্য নিয়ে এ আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে সেগুলো যদি অর্জন করা না যায়, তবে এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার কী প্রয়োজন ছিল?
এ জামায়াত নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এ বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের মাঝামাঝি নির্বাচনি টাইমলাইন দিয়েছেন। সরকারকে যদি আমরা পর্যাপ্ত সময় না দেই এবং কোনো একটি পক্ষের চাপে পড়ে সরকার সংস্কার কার্যক্রম অপূর্ণাঙ্গ রেখে নির্বাচন দেয় তবে জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। এর মধ্য দিয়ে হয়তো নির্বাচিত এবং গণতান্ত্রিক একটি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে কিন্তু দেশ আবারও তার সেই পুরনো সিস্টেমেই ফিরে যাবে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে ফেরাতে হবে। নির্বাচনি মাঠ সামাল দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শতভাগ শারীরিক, মানসিক এবং জনতামুখী ফিটনেস নিয়ে মাঠে থাকতে হবে। নইলে নির্বাচনের পরিবেশ ব্যাহত হবে, জীবনের ঝুঁকি তৈরি, জনগণ ভোট দিতে পারবে না। ভোটের কারচুপি, জালিয়াতি, কালো টাকার ছড়াছড়ি, কেন্দ্র দখল, সন্ত্রাসের কারণে জনগণ আবারও তাদের ভোটাধিকার হারাবে। এগুলো যদি আবার ফিরে আসে তবে এতদিনের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, জীবন দেওয়া সব বৃথা যাবে।