অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে গত আট দিনে অন্তত সাড়ে ৫ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ অভিযানের সময় আইস, এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের সঙ্গে ছিলেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমও।
জানা গেছে, সুসজ্জিত বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্যের অভিযানে আশপাশের বাসা-অফিস-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। অভিযানের আগেই গুরুতর অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের অবস্থান নিশ্চিত হয় বলে জানা গেছে। ব্রঙ্কসের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উল্লেখ্য, ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে। গুরুতর অপরাধী অভিবাসী হিসেবে প্রথম টার্গেট হচ্ছে- বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীরা। এরপর রয়েছে দন্ডিত অপরাধীরা। সে অনুযায়ীই এ যাবৎ সাড়ে ৫ হাজার জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)। অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন টাস্কফোর্স (আইটিএফ)।
গ্রেপ্তার অভিযানে সন্ত্রস্ত কমিউনিটিকে অভয় দিতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী ২৮ জানুয়ারি এই প্রতিনিধিকে বলেন, যারা কোনো প্রোগ্রামে আবেদন করেছেন-তারা অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হবেন না। তবে যাদের বিরুদ্ধে কোর্ট থেকে বহিষ্কারের আদেশ জারি হয়েছে তারা অবশ্যই চলতি অভিযানের টার্গেট। কারণ, তারা হলেন ফেরার। আর যারা মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করেছে বেআইনিভাবে-তারাও এ অভিযানের টার্গেট। চলতি গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার অভিযানে শঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ অ্যাটর্নির পরামর্শ অনুযায়ী নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
২০ লাখ কর্মচারীকে পদত্যাগের আহ্বান : বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী ২০ লাখ ফেডারেল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার একটি সার্কুলার বিতরণ করা হয়েছে।
ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, যারা ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পদত্যাগ করবে তাদের আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন দিয়ে অবসরে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, এত কর্মচারীর দরকার নেই। এখন অনেক কিছুই প্রযুক্তির মাধ্যমে করা যাচ্ছে। এ ছাড়া ভিন্নমতের কর্মচারী রেখে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়িত করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
জানা গেছে, ফেডারেল প্রশাসনের ২০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন টার্গেটে রয়েছেন। এদের ডেমোক্র্যাট-শিবিরের লোক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রিপাবলিকান শিবির থেকে। ইমেইলে বিলি করা ওই সার্কুলারের শিরোনাম হচ্ছে ‘ফোর্ক ইন দ্য রোড’। অফিসের জনবল হ্রাসের লক্ষ্যে এরই মধ্যে ট্রাম্পের লোকজন অনেককে বরখাস্তের একটি তালিকা তৈরি করেছে।
প্রশাসনের এক ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেডারেল প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রেসিডেন্টের প্রতি অনুগত থাকা জরুরি। তাহলেই সব কাজ সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব। আর যারা সব কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ান, তারা নানান অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করেন। তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় বরখাস্তের বিকল্প থাকে না। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সে পথে না হেঁটে স্বেচ্ছায় বিদায় নেওয়ার পথ সুগম করে দিল এবং চলতি অর্থবছরের শেষ দিন পর্যন্ত তারা বেতন-ভাতাসহ কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন সসম্মানে।