আর্থিক খাত বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলেছেন, বিদেশে রোড শো করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায় না। বিগত সরকারের সময় রোড শোর নামে আমলা ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্টরা বিদেশে আনন্দ ভ্রমণ করেছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে। সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন তাদের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে এসব রোড শো করেছে। গতকাল রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুন রশীদ বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হলে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি ঋণপ্রাপ্তি সহজীকরণ, আমলাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার জরুরি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হলেও সৌদি আরবের আরামকো, কোরিয়ার সামসাং ও অ্যামাজন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেনি। ডলার সংকটের কারণে ইত্তেহাদ ও ফেসবুক তাদের বিনিয়োগ সংকোচন করেছে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে ছায়া সংসদে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সমান নম্বর পেয়ে যৌথভাবে বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, বাবু কামরুজ্জামান, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও আবুল কাশেম। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ সময় হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ১০ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন। সুপারিশগুলো হলো- বিশ্বাসযোগ্যতা, নীতি ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগের মুনাফা ও মূলধন ফেরত নিতে কোনো শঙ্কা না থাকে; আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো; শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, উন্নত অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান; যেসব শিল্প বৃহৎ পুঁজি আকর্ষণ করে সেসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ব্র্যান্ডিং জোরদার করা; বিনিয়োগ নিরাপত্তা, সহজে লাইসেন্স পাওয়া, বিনিয়োগ সেবা নিশ্চিত করাসহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা; শিক্ষার মান বাড়িয়ে শ্রমবাজারের চাহিদার আলোকে দক্ষ শ্রমিক ও উপযুক্ত ব্যবস্থাপক তৈরি; দুর্নীতি বন্ধের পাশাপশি ট্যাক্স, শুল্কছাড় আকর্ষণীয় করা; অতীতে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিনিয়োগ নিয়ে মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; অর্থনীতির স্বার্থে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বিনিয়োগের সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা; বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তি দূর করতে বেজা, বিডা ও বেপজাকে একীভূত করে সমন্বিত বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণ করা এবং বাণিজ্য কূটনীতিতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাণিজ্য মন্ত্রলালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব প্রদান করা।