প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। গতকাল দুপুরের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে এ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে তাঁরা। তবে শাহবাগ থানার সামনে এলে পদযাত্রাটিতে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষকরা শাহবাগ থানার বিপরীত পাশের সড়কের ওপর বসে পড়েন। এতে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন টিএসসি থেকে শাহবাগ এবং শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখে সড়কে চলাচলকারীরা। শিক্ষকরা সরকারের প্রতিনিধিদের দুপুর ২টার মধ্যে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় বেঁধে দেন। তবে এ সময়ের মধ্যে সরকারের প্রতিনিধি কেউ না এলে তাঁরা পৌনে ৪টার দিকে পদযাত্রা কর্মসূচি নিয়ে যমুনা অভিমুখে রওনা দেন। তাঁরা তাঁদের দাবিদাওয়া প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে পৌঁছে দিতে সেখানে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে স্মারকলিপি নিয়ে যায়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, শিক্ষকরা স্মারকলিপি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যেতে চেয়েছিলেন। আমরা তাঁদের বুঝিয়ে সেখান নিবৃত করেছি। আমাদের সহযোগিতায় তাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে স্মারকলিপি নিয়ে গেছে। শিক্ষকরা জানান প্রতিনিধিদলে ছিলেন- মো. মাহবুবুর রহমান, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন, মো. লুৎফর রহমান, মনিবুল হক বসুনিয়া, আবদুল মান্নান, জুয়েল, বিজয় কর্মকার, শামীমা নাসরিন, সিরাজুল ইসলাম ও খায়রুন নাহার লিপি। তবে আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান রাতে জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে। আর সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া যায়নি। তিনি মন্তব্য করেন, এমন ঘটনায় আমরা অবাক হয়েছি। আপাতত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রসঙ্গত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। দীর্ঘদিন ধরে তারা দশম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।