রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) যুক্ত হচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার বর্গফুটের নতুন ‘এক্সপো ভিলেজ’। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক এক্সপো-টেন্ট। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ বহুমুখী স্থানটিতে মেলা, প্রদর্শনী, সমাবর্তন, সেমিনার, এজিএম, কর্পোরেট রিট্রিট, কনসার্ট, বিবাহ, বাইক, কার শোসহ যেকোনো ধরনের ছোট থেকে বড় সামাজিক অনুষ্ঠান স্বাচ্ছন্দ্যে করা যাবে।
একই ছাদের নিচে ১০ হাজার জনেরও বেশি লোক সমাগমের জন্য একটি আদর্শ স্থান হতে যাচ্ছে এই এক্সপো ভিলেজ। বছরে ৩৬৫ দিনই অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা থাকবে এ এক্সপো ভিলেজে। এখানে আইসিসিবির বৃহৎ হলগুলোর মতোই সহস্রাধিক গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ট্রান্সপোর্ট সুবিধা, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা এ হলেও পাওয়া যাবে।
আগামী বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ বিল্ডকোন ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৫’, ‘বাংলাদেশ উড ২০২৫’ এবং ‘ইলেক্ট্রিক্যাল এক্সপো ২০২৫’ আয়োজনের মাধ্যমে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক এক্সপো ভিলেজ। এই আয়োজনে মূল আয়োজক এএসকে ট্রেড এন্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং ফিউচারেক্স ট্রেড ফেয়ার এন্ড ইভেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড।
আজ দুপুরে প্রদর্শনীতে প্রস্তুতিমূলক আয়োজন সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আয়োজকরা প্রস্তুতিকর্ম শুরু করেছেন। দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির আনা আধুনিক প্রযুক্তিগুলো স্থাপনের বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।
প্রদর্শনীতে আসা আয়োজকরা জানান, এ ধরনের বৃহৎ পরিসর দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের যে কোনো প্রদর্শনের জন্য সুবিধাজনক।
এক্সপো ভিলেজে একযোগে চারটি ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের জন্য রয়েছে পৃথক কম্পার্টমেন্ট। ভেন্যুটিতে দুটি পৃথক ওয়াশরুম সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া আইসিসিবির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা প্রদানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। এক্সপো ভিলেজে অপারেশনাল অফিস বিল্ডিংয়ের সঙ্গে থাকায় সবকিছুর ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে প্রদানে সক্ষম। এখানে ২ হাজারটিরও বেশি গাড়ির জন্য রয়েছে বিস্তৃত পার্কিং সুবিধা।
এ ছাড়াও আইসিসিবির অন্যান্য হল ঘুরে বিভিন্ন চলমান আয়োজন এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দেখা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স, বিডিজবস আয়োজিত ‘ফ্রেশার্স ক্যারিয়ার ফেয়ার’, বিশ্ববিখ্যাত ইলেক্ট্রনিক্স ব্র্যান্ড ‘হেয়ার’র কর্পোরেট প্রোগ্রাম এবং পেইন্ট এন্ড কোটিং প্রদর্শনী।
এদিকে, আইসিসিবিতে পেইন্ট এন্ড কোটিং প্রদর্শনী মেলা এবার দ্বিতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ এ মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমএ) সভাপতি মহসিন হাবিব চৌধুরী।
মেলার আয়োজক সংস্থা ই-থ্রি সলিউশনসের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের সিনিয়র ম্যানেজার অভিজিৎ মন্ডল বলেন, বিভিন্ন রংয়ের কালার তৈরিতে যেসব মেশিনারি ব্যবহৃত হয় সেসব মেশিন এ মেলায় প্রদর্শনী হচ্ছে। মেলায় ৭০ থেকে ৭৫ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ৫০টি স্টল নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে।
মেলায় কথা হয় ট্রেড টেকের ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এয়ার কম্প্রেসার এবং ডিজেল জেনারেটর প্রদর্শনী করছি। আমরা চায়না জেনারেটর বিক্রি করে থাকি। আমাদের জেনারেটরগুলো ৩ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এ ছাড়া কম্প্রেসারগুলো ৪ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। এইসব কম্প্রেসার সব ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা যায়।
ফাঙ্কলিংয়ের সিইও নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্লোরিং কোটিং প্রদর্শনী করছি। এ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রির হেভি ডিউটি ফ্লোটিংয়ের কাজ করে থাকি। এর বাইরে ওয়াটার প্রুফিং, বেসমেন্ট কার পার্কিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্লোটিংয়ের সব কাজ করে থাকি। এসব কাজ স্কয়ার ফিটভিত্তিক করে থাকি। কাজের উপর ভিত্তি করে স্কয়ার ফিট ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে করা হয়।
প্রদর্শনী প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কেউ কেউ খোঁজ নিচ্ছেন নিজের বাড়ির জন্য ভালো মানের পেইন্টের।
বিডি প্রতিদিন/এমআই