বনটি ছিল অনেক সুন্দর। শান্ত ও নিরিবিলি। সেই বনে অন্য পশু-পাখিদের সঙ্গে হাতিও বাস করত। তোমরা নিশ্চয় জানো, হাতির পা গাছের মতো। কান কুলোর মতো। আর দাঁত মুলোর মতো। হাতির শুঁড় বেশ লম্বা। বিশাল তার দেহ। কিন্তু হাতির লেজটি ছোট। হাতি থপাস থপাস করে হাঁটে।
‘এই বনে একটি হাতি ছিল খুব অহংকারী। এক দিন এই হাতিটির কী হলো জানো?’
‘কী হলো?’
আচ্ছা শোনো তাহলে...
এক দিন বনে সব পশু-পাখির মিলনমেলার আয়োজন হলো। হাতিকে বিশেষ অতিথি করা হলো। বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, জিরাফ, শেয়াল, হরিণ, বানর, টুনটুনি, শালিক, টিয়ে সবাই এলো। সবাই অনেক মজা করল। অনেক ভোজ হলো। এর মধ্যে হাতি লক্ষ্য করল, সব পশু-পাখির মধ্যে সেই দেহ আকারে সবচেয়ে বড়োসড়ো। অনেক শক্তিশালীও। সব পশুপাখিকে তার কাছে ক্ষুদ্র মনে হলো। তুচ্ছ মনে হলো। হাতি মনে মনে নিজেকে রাজা বলে ভাবল। হাতি বনের রাজা হতে চাইল। কিন্তু কেউ তাকে রাজা হিসেবে মানল না। তবুও হাতি নিজেকে রাজা বলে ঘোষণা দিল।
হাতি বলল, ‘আমি বনের সব পশু থেকে দেখতে সবচেয়ে বড়োসড়ো। বিশাল দেহের অধিকারী আমি। আর আমি অনেক শক্তিশালীও। আমি আমার শুঁড় দিয়ে অনেক কঠিন কাজ করতে পারি। আবার ধ্বংসও করতে পারি। যে আমাকে রাজা বলে মানবে না তাকে কঠিন শাস্তি দেব।’
হাতি তার বিশাল দেহ আর শক্তি নিয়ে অহংকার করত। কিন্তু হাতি যে তার এই বিশাল দেহ নিয়ে ঠিকমতো হাঁটতেও পারত না, তা কখনো স্বীকার করত না।
এক দিন হাতি টুনটুনিকে দেখে বলল, ‘এই টুনটুনি, আমাকে কি তুই রাজা বলে মানিস?’
টুনটুনি কিছু না বলেই ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল। হাতি রেগে গেল। টুনটুনির বাসা ভেঙে দিল সে।
আরেকদিন জিরাফকে বলল, ‘জিরাফ, তোমার তো দেখি খুব অহংকার। সবসময় মাথা উঁচু করে চলো। নিচে মাটি-ঘাসের দিকেও তো একটু তাকাও না।’
জিরাফের গলা লম্বা বলে হাতি ঠাট্টা করল। জিরাফ হাতির কথায় কষ্ট পেল।
তারপর এক দিন শেয়ালকে বলল , ‘তোমাদের তো আর খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই। রাত হলেই হুক্কাহুয়া শুরু করে দাও। শুধু শুধু আমার ঘুম নষ্ট করো। আমাকে রাজা না মানলে রাতে কেউ আর হুক্কাহুয়া ডাকতে পারবে না। নয়তো শুঁড় দিয়ে ধরে একটা করে আছাড় দেব।’
এভাবে হাতি বনের পশুপাখিদের নানা কটুকথা বলে তিরস্কার করতে লাগল। ঠাট্টা করতে লাগল। বনে অশান্তি তৈরি হলো।
এক দিন হাতি গেল সিংহের ডেরায়। সিংহ হাতির সব কথা শুনল।
সিংহ হাতিকে বলল, ‘তোমাকে আমরা রাজা মানব। তার আগে আমাদের একটি উপকার করতে হবে। আমাদের রাস্তা দখল করেছে পিঁপড়ার দল। রাস্তা থেকে পিঁপড়ার দল সরাতে হবে।’
‘কোনো সমস্যা নেই। এক ফুঁ দিয়ে সব পিঁপড়া উড়িয়ে দেব। কাল দেখবে সব পরিষ্কার।’ বলল হাতি।
সিংহ- পিঁপড়াদের সব পরিকল্পনা জানিয়ে রাখল।
পরদিন হাতি গেল পিঁপড়ার বাসা উচ্ছেদ করতে। হাতি পিঁপড়ার বাসায় শূঁড় দিয়ে গুঁতো দিলো। আর অমনি সব পিঁপড়া হাতির শুঁড়, পা, সারা শরীরে কামড় বসিয়ে দিল। হাতির কানের ভিতর পর্যন্ত ঢুকে গেল পিঁপড়া। হাতি যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগল। মাটিতে গড়াগড়ি দিল। শেষমেশ পানিতে ঝাঁপ দিল। পানিতে ছিল বড় বড় কুমির। চার পাঁচটি কুমির হাতিকে খুবলিয়ে ধরল। টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেল গভীর জলে।