কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টা অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম বেলাশহর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বেলাশহর এলাকাস্থ একটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। পৌনে ১১টায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ও উপজেলা বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকায় অবরোধ প্রত্যাহার করে মহাসড়ক থেকে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা সরে গেলে গাড়ির চাকা ঘুরতে শুরু করে।
বিকাল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কোরপাই থেকে চান্দিনার মাধাইয়া এলাকা পর্যন্ত অন্তত ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের চাপ রয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ এর সাথে কাজ করছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
ওই কারখানার একাধিক শ্রমিক জানান- দুই মাস আমাদের বেতন দিচ্ছে না মালিক পক্ষ। দুই মাসের বেতন কারও ৩০ হাজার, কারও ৪০ হাজার টাকা বকেয়া। এ মাসে আমাদের মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতন দেয়! এতে আমরা ঘর ভাড়া দেয়া থাক দূরের কথা ভাত পর্যন্ত খেতে পারছি না। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। মালিকদের কাজ করি, কিন্তু আমরা এখান থেকে বেতন নিয়ে যে সংসার চালাই সেটা কেউ ভাবে না। আজ আমরা বাধ্য হয়েই মহাসড়কে নেমেছি। আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান নিলে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতা-কর্মীরা এসেও আমাদের সরিয়ে দেয়।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আতিকুল আলম শাওন জানান, তুচ্ছ বিষয়ে মহাসড়ক অবরোধ করা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকালে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করায় আমরা ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সাথে কথা বলি এবং তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে এর সুষ্ঠু সমাধান করবো বলে আশ্বস্ত করি। আমাদের কথার উপর ভরসা করে তারা মহাসড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়। আজ শুক্রবার জুম্মার দিন, মহাসড়কের যানজট নিরসনে আমাদের নেতা-কর্মীরা কাজ করছে।
হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করায় আমরা মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বেতনভাতা পরিশোধ করার আশ্বাসে তারা মহাসড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবরোধে যানজট দীর্ঘ হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছে আমাদের হাইওয়ে পুলিশ।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল