কুষ্টিয়ার প্রথম শ্রেণির কুমারখালী পৌরসভায় নেই কোন ডাম্পিং স্টেশন। বাধ্য হয়ে পৌরকর্তৃপক্ষ মহাসড়কের দুইধারে ফসলি জমিতে ফেলছে ময়লা-আবর্জনা। সম্প্রতি উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড হাঁসদিয়া এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে হাঁসদিয়া এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক গ্রামবাসী।
মঙ্গলবার ( ১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপরে উপজেলা পরিষদ চত্বর এ ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেন বিক্ষোভকারীরা।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়- কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ কয়েকশত নানা বয়সী নারী-পুরুষ মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ করছেন। ব্যানারে লেখা রয়েছে- 'পৌরসভার ময়লা গ্রামে যাবেনা'। এসময় হাঁসদিয়া গ্রামের মৃত সাবান মণ্ডলের ষাটোর্ধ স্ত্রী জহুরা খাতুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। খাই আর না খাই, তবুও আমরা গন্ধে মরবো না। পৌরসভার ময়লা গ্রামে ফেলতে দেবোনা। পৌরসভার ময়লা গ্রামে যাবেনা, যাবেনা। কলেজ ছাত্রী আফরিন আক্তার স্মৃতি বলেন, ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মানুষ রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। চাষবাদ ব্যাহত হচ্ছে। সেজন্য পৌরসভার ময়লা না ফেলার দাবি জানাই।
হাঁসদিয়া মাঠে প্রায় আট বিঘা জমিতে শিম, পটল, শশা, মূলা, বেগুনসহ হরেকরকম সবজির চাষাবাদ করেন বরকত আলী মোল্লার ছেলে রমজান আলী মোল্লা। তিনি বলেন, ময়লার ভাগার হলে মাঠে শিয়াল, কুকুর, কাকসহ বিভিন্ন প্রাণি ফসলের তসরুপ করবে। মানুষ স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারবেনা। সেজন্য ভাগার বন্ধ করতে কাজ ফেলে মানববন্ধনে এসেছি।
হাঁসদিয়া গ্রামে অন্তত ১৭৫টি পরিবারের বসবাস বলে জানান ব্যবসায়ী সামছুল আলম। তিনি বলেন, হাঁসদিয়ার ফসলী জমি ও লোকালয়ে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে ইউএনওর কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেছি। তার ভাষ্য, লোকালয় থেকে দূরে এবং সরকারি জমিতে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হোক।
১৮৬৯ সালে গঠিত প্রথম শ্রেণীর পৌররসভায় ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় মহাসড়কের ধারে ফসলি জমিতে ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি বলেন, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। হাঁসদিয়া এলাকায় বেশকিছু সরকারি খাস জমি রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ