পাবনার বেড়া পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া মহল্লার ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ১১তম ‘সবজি খিচুড়ি’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ উৎসবের আয়োজন করেন বেড়া দক্ষিণপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে গঠিত খিচুড়ি উৎসব উদযাপন কমিটি।
এবারের আয়োজনে ১২ মণ চাল, ৪ মণ মসুরের ডাল ও প্রায় ১২০ মণ সবজি দিয়ে তৈরি করা হয় সবজি খিচুড়ি।
এই খিচুড়ি উৎসবে আমন্ত্রিত থেকে খাওয়া-দাওয়া করেন বেড়া পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া, দাসপাড়া, কর্মকারপাড়া, শাহপাড়া, শেখপাড়া, হাতিগাড়াসহ পৌরসভার প্রায় সব মহল্লার সর্বস্তরের লোকজন। এ উৎসবকে ঘিরে দক্ষিণপাড়ায় শুরু হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।
জামাই-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনায় আনন্দমুখর এক পরিবেশের সৃষ্টি হয় গ্রামটিতে। ৭-৮ হাজার মানুষের এ উৎসবে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব চলে রাত আটটা থেকে প্রায় রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রতি বছর ধনী-গরিবসহ সর্বস্তরের মানুষ অপেক্ষায় থাকে এ দিনটির জন্য। সবজি খিচুড়িতে শীতকালীন সব ধরনের সবজি ব্যবহার করা হয়। আর এবারের আয়োজনে ছিল ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, শিম, মুলা, শালগম, আলু, পেঁয়াজ ফুল, টমেটো, মটরশুটি মিলে প্রায় ১২০ মণ সবজি, ১২ মণ চাল ও ৪ মণ ডাল।
এলাকাবাসী জানান, ২০১৫ সালে বেড়া পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া মহল্লার ১০ থেকে ১২ জন যুবক মিলে এ খিচুড়ি উৎসব শুরু করেন। ওই বছর সবজি খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো হয় মহল্লারই শতাধিক নারী-পুরুষকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আয়োজনের পরিধি প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সময় এই আয়োজনের সঙ্গে শুধু দক্ষিপাড়া মহল্লার যুবকরা জড়িত থাকলেও এখন দলমত ও ধর্ম-বর্ণ মিলিয়ে আশপাশের ছয়টি মহল্লার বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এবারের সবজি খিচুড়ি উৎসব দক্ষিণপাড়ায় অনুষ্ঠিত হলেও এতে অংশ নেন দাসপাড়া, কর্মকারপাড়া, শাহপাড়া, শেখপাড়া ও হাতিগাড়া মহল্লার প্রায় সাত-আট হাজার নারী-পুরুষ।
কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম আশুলিয়া ইপিজেডে চাকরি করেন। কর্মসূত্রে পরিবারের সবাই মিলে ওই এলাকাতেই বসবাস করেন। তিনি বলেন, খিচুড়ি উৎসবের জন্য আমরা পরিবারের সবাই বছর জুড়ে অপেক্ষা করি। আজকের এই খিচুড়ি উৎসবকে সামনে রেখে আমার ভাই, বোনসহ পরিবারের ৮ জন বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামের বাড়িতে আসি।
উৎসবের অন্যতম উদ্যোক্তা দক্ষিণপাড়া মহল্লার ফজলুর রহমান বলেন, এই উৎসব কয়েকটি মহল্লার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার সৃষ্টি করেছে। গত তিন-চারদিন ধরে মহল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে। আমাদের মহল্লাসহ আশপাশের কয়েকটি মহল্লায় অন্তত এক হাজার নারী-পুরুষ এই উৎসবকে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে বেড়াতে এসেছেন।
দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা তরুণ উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, খিচুড়ি উৎসব এখন এ এলাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হয়ে গেছে। দক্ষিণপাড়া মহল্লার তরুণরা এই উৎসবে মূল ভূমিকা পালন করলেও আশপাশের মহল্লাগুলোর সর্বস্তরের মানুষ এতে সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন, বিষয়টি সত্যিই আনন্দের।
বেড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোশাররফ হোসেন রান্টু বলেন, এটা এখন এ ওয়ার্ডের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেব পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামের যুব সমাজের আয়োজন করলেও সর্বস্তরের মানুষ এতে সাহায্য সহযোগিতা করেন, পাশাপাশি আনন্দ উৎসব করেন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই