পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত যুবক রহমত উল্লাহ কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই এলাকার ১১ যুবককে লোভ দেখিয়ে কৌশলে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে টেকনাফের বন্দীশালায় আটকে রাখা হয়।সেখানে বন্দীদের নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করে চক্রটি। এদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে মঙ্গলবার রহমত উল্লাহ নামে একজন প্রাণ হারিয়েছেন।
টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া, বড়ডেইল ও বাঘঘোনা এলাকায় এসব পাচারকারীদের বন্দীশালায় আটকা রয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। সেখানে নির্যাতনে মঙ্গলবার নিহত হয়েছেন রহমত উল্লাহ নামের ওই যুবক। বুধবার পারিবারিকভাবে রহমত উল্লাহর দাফন হয়।
পাচারকারী চক্র থেকে ফিরে আসা মনিরুল ইসলাম ও তারেক নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের তথ্য জানিয়ে বলেন, তাদের যে বন্দীশালায় আটক রাখা হয়েছিল, সেখানে আরও অর্ধশতাধিক লোক বন্দী রয়েছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি টেকনাফে মানব পাচারের ঘটনা বেড়ে গেছে। মানব পাচারের আড়ালে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনার কথাও তিনি স্বীকার করেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রতারণা করা হচ্ছে বুঝতে পেরে পালাতে গিয়ে দালাল চক্রের কাছে ধরা পড়েন রহমত উল্লাহ ও নবী আলম। দালাল চক্রের পিটুনিতে গুরুতর আহত রহমত উল্লাহ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান। আর নবী আলম এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল কালাম বলেন, পাচারকারীদের হাতে নিহত রহমত উল্লাহসহ ১১ জনই রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চরপাড়ার বাসিন্দা। জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদানের বিনিময়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের টেকনাফ নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাদের মালয়েশিয়া না পাঠিয়ে বন্দীশালায় আটকিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য নির্যাতন করা হয়।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল