চাঁদপুরে ৮ উপজেলায় সরকারের নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই চলছে অধিকাংশ ইটভাটা। জেলায় ৯১টি ইটভাটার মধ্যে ৪১টি ভাটাই অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে চালু করা এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
এতে করে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা হ্রাস না পেয়ে, বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকে। তবে জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, খুব দ্রুতই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, পরিবেশের জন্য হুমকি ও ক্ষতিকর এমন বেশ কয়েকটি ইটভাটার তালিকা জেলা প্রশাসন ও মনিটরিং এনফোর্সমেন্ট সেলে পাঠানো হয়েছে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, বসতবাড়ি সংলগ্ন ও ফসলি জমিতে ইটভাটা দেওয়া যাবে না। কিন্তু এই সকল ভাটার মালিকরা সরকারের এসব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তাদের কার্যক্রম চলমান রেখেছে। এদের পরিবেশ বা জেলা প্রশাসনের কোনো ছাড়পত্র নেই।
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসনের ও মনিটরিং এনফোর্সমেন্ট শাখার সাথে সমন্বয় করে সকল অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শাহারাস্তী উপজেলায় ৬টি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তালিকা মনিটরিং সেলে পাঠানো হয়েছে। ১ ডিসেম্বর ফরিদগঞ্জে চরবসন্ত ব্রিক ফিল্ডের বিষয়ে চাঁদপুর আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলায় বর্তমানে ৯১টি ইটভাটা আছে। তার মধ্যে ৫০টি বৈধ ও ৪১টি অবৈধ ইটভাটা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। অচিরেই আমরা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে অভিযানে নামবো, তখনই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাঁদপুর জেলা ইট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আবদুর রশিদ বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো সুপারিশ নেই। যারা অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, জেলায় যেসব ইটভাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলোর তালিকা করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। তালিকা করা শেষ হলে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করবো।
বিডি প্রতিদিন/এমআই