কয়েকদিন ধরে ঘনকুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষকদের বীজতলার চারা বাঁচাতে পলিথিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরি ও চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাহারোল-বীরগঞ্জসহ দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলার বোরো বীজতলা রক্ষায় পলিথিন ব্যবহার করছে কৃষক। একদিকে যেমন কুয়াশা ও ঠান্ডার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে চারাগুলো পলিথিনের নিচে সতেজ থাকছে বলে কৃষক জানান। তবে ভয়ের আশংকা নেই বলে কৃষি বিভাগ জানায়।
বিভিন্ন ফসলের মাঠে দেখা যায়, বিকালের পর থেকে কুয়াশা পড়তে শুরু হয়। রাতে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার সাথে ঠান্ডায় সকাল থেকে শুরু করে সূর্যের দেখা পাওয়া পর্যন্ত বোরো বীজতলায় কৃষকদের পরিচর্যা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বোরো বীজতলা বাঁচাতে চারার উপরে পলিথিন দিয়ে ঢেঁকে রেখেছে, আবার কেউ চারার উপরে জমে থাকা শিশিরগুলো বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ফেলে দিচ্ছে-যাতে চারাগুলো ভালো থাকে। এমন পরিস্থিতে মাঠ পর্যায়ে পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন ভয়ের আশংকা নেই বলে কৃষি বিভাগ জানায়।
কাহারোল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, কাহারোল উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি। সেই অনুযায়ী বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭৮ হেক্টর জমি।
রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ঈশানপুর গ্রামের বোরো ধান চাষী মোঃ সামসুল ইসলাম জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুম ৬ একর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করবেন। সেজন্য আগাম জাতের বোরো ধানের বীজ বপন করেছেন। শীত ও ঘন কুয়াশায় হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বীজগুলোকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন।
অপর চাষী মোঃ মফিজ উদ্দীন তিনি বলেন, আমি ৭ একর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ করবো। এইজন্য ব্রি-ধান ২৯ ও ব্রি-ধান ৮৯ জাতের বীজ জমিতে বপন করেছি এবং বীজ তলা সম্পূর্ণরূপে বীজগুলোকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছি। যাতে করে বীজগুলো ভালো থাকে।
কাহারোল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, কৃষকদের বীজতলাগুলোকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যাতে বীজতলাগুলো নষ্ট না হয়। এই বিষয়ে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।
বিডি প্রতিদিন/এএ