বগুড়ায় সরকারি দামের তুলনায় বাজারদর বেশি হওয়ায় গুদামে আমন ধান দিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের। এ অবস্থায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে সরকারি গুদামগুলোতে।
জেলার অনেক গুদামে এক মাসে কোনো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতে করে ভাটা পড়েছে সরকারিভাবে আমন ধান সংগ্রহে। এদিকে, গুদামগুলোতে কাজ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন এলএসডির শ্রমিকরা।
জানা যায়, আমন মৌসুমে বগুড়া জেলায় সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার টন। এ পর্যন্ত ক্রয় করা হয়েছে ৮১ টন। সরকারি দামের তুলনায় বাজারদর বেশি হওয়ায় গুদামে ধান দিতে কৃষকদের আগ্রহ নেই। এমন অবস্থায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে। তবে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে, জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় গত ৫ ডিসেম্বর সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ আমন ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর ১ মাসে কোনো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি গুদাম কর্তৃপক্ষ। তবে মিলারদের কাছ থেকে প্রায় ২১৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। একই অবস্থা অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও।
নন্দীগ্রাম এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আলমগীর জানান, এ বছর নন্দীগ্রামে কৃষকদের কাছ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে ১৩৪২ মেট্রিক টন আমন ধান ও চাল কল মালিকদের কাছে থেকে ৪৭ টাকা কেজি দরে ৬৭২ মেট্রিক টন আমন ধানের চাল ক্রয় করা হবে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হুয়াকুয়া গ্রামের কৃষক মুছা মন্ডল জানান, সরকারনির্ধারিত ধানের দামের চাইতে বাজারে দাম বেশি। তাই খোলাবাজারে ধান বিক্রি করলে তুলনামূলক বেশি লাভ। এ ছাড়া গুদামে ধান দেওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করা, সব ধরনের ধান না নেওয়া, ধানের দাম হাতে হাতে না পাওয়াসহ নানা সমস্যা রয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, ধান কিনে চাল করতে যে খরচ পড়ছে, আর সরকারিভাবে যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে আমাদের কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা লোকসান হচ্ছে।
বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রিয়াজুর রহমান রাজু জানান, বাজারে ধান-চালের দাম বেশি। তাই গুদামে ধান দিতে কৃষকদের আগ্রহ নেই। গুদামে ধান কেনার সময় শুকনো ও চিটামুক্ত দেখে কিনতে হয়। আর বাজারে অপরিষ্কার ও চিটাসহ কৃষকরা ধান বিক্রি করে থাকেন। আমন মৌসুমে বগুড়া জেলায় সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার টন। এ পর্যন্ত ক্রয় করা হয়েছে ৮১ টন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই