ক্রমাগত শৈত্য প্রবাহ আর প্রচন্ড ঠান্ডার কবলে পড়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের পাথর বালি শ্রমিকরা সংকটে পড়েছে। প্রতিবছর ডিসেম্বর জানুয়ারী মাসে শীতের প্রভাবে তাদের জীবন হয়ে ওঠে মানবেতর। নদীর ঠান্ডা পানি আর শীতকে আলিঙ্গন করে জীবিকার তাগিদে তাদেরকে উত্তোলন করতে হয় পাথর বালি। আর এই পাথর বালি সারা দেশের বাড়ি, ঘর, রাস্তা, ঘাটসহ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। কিন্তু বিগত সরকার এই শ্রমিকদের নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
উত্তরের হিমালয়ান সমতল অঞ্চল খ্যাত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ৫০ নদ নদী। সুদীর্ঘ কাল ধরে মহানন্দা, ডাহুক, করোতোয়া, বেরং, চাওয়াই,তালমা, বুড়ি তিস্তাসহ বেশ কিছু নদী থেকে পাথর বালি উত্তোলনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। অন্যদিকে পাথর বালি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজে জড়িয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩০ হাজার মানুষের। প্রতিবছর শীতকালে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিম বায়ুর প্রভাবে এসব নদীর পানি হয়ে যায় বরফের মতো ঠান্ডা। মৃদু, মাঝারী আর তীব্র শৈত্য প্রবাহের কবলে পড়ে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। এবছরও নভেম্বর মাসের শেষ থেকে তীব্র ঠান্ডার কবলে পড়েছে এই জেলা।
কুয়াশায় আবৃত্ত থাকছে সবকিছু। দিন শুরুর অনেক পড়ে সূর্যের দেখা মিললেও উত্তাপ নেই রোদে। হিমবাতাশ আর শিশির ভেজা কুয়াশা জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ঠান্ডায় সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের না হলেও জীবিকার তাগিদে পাথর বালি শ্রমিকদের প্রতিদিনই কাজে যেতে হচ্ছে। কিন্তু তারা সময় মতো কাজে যেতে পারছে না। ফলে পাথর বালি উত্তোলন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা গভীর সংকটে পড়েছে। তারা বলছেন আয় রোজগার কমে গেছে তাদের।
গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন হাজার টাকা রোজগার হলেও বর্তমানে ৫ থেকে ৬ শ টাকায় দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। এদিকে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার পাথর শ্রমিক নজিবুল ইসলাম বলেন, গ্রীস্মকালে ভোর বেলা উঠে ডাহুক নদ থেকে পাথর উত্তোলন করি। তখন দিনে ১ হাজার টাকা আয় হতো। এখন বেলা ১১/১২ টার দিকে কাজে যেতে হয়। বিকেলেই কাজ শেষ করতে হয়। আয় হচ্ছে দিনে ৪’ খেকে ৫’ শ টাকা। জিনিষপত্রেরে যে দাম তাতে সংসার, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গিতালগছ গ্রামের করিমুল ইসলাম জানান, অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সংসারের জন্য কিনবে কি, ওষুধ কিনতেই আয়ের টাকা শেষ হয়ে যায়। আগের সরকার আমাদের জন্য কিছু করেনি। আমরা কোনদিন কম্বল পাই না, কোন সুযোগ সুবিধাও পাই না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন দীর্ঘকাল ধরে দেশের অবকাঠামো নির্মাণে এসব পাথর বালি শ্রমিকের অবদান থাকলেও তাদের জীবন মান উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়নি বিগত সরকার। জেলা প্রশাসন বলছে এবছর পাথর শ্রমিকদের তালিকা করে অনুদানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো: সাবেত আলী জানান, প্রতিবছর শীতের সময় এই জেলার পাথর বালি শ্রমিকরা দুর্ভোগে পড়ে যায়। তাদের আয় রোজগার কমে যায়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল