নানা প্রতিবন্ধকতায় ৩৮ বছর ধরে ধুঁকছে কুমিল্লা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুল। এখানে নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষকরাই ঝাড়ু দেন, পরিষ্কার করেন বাথরুম। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় প্রধান শিক্ষকের রুম ব্যবহার হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে। নেই সীমানাপ্রাচীর। কুমিল্লা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুল সুইড বাংলাদেশ সংস্থার তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪৫ জন। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষা সহকারীর সৃষ্ট পদ নয়টি। কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। এর মধ্যে একজন সহকারী আছেন বিশেষ কোটায়। তার দায়িত্বও শিক্ষকদের পালন করতে হয়। নেই গাড়িচালক, দারোয়ান, পিয়ন ও দপ্তরির পদ।
নিয়মানুযায়ী প্রতি পাঁচজন অটিজম শিশুর জন্য একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষা সহকারী প্রয়োজন। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ১০ জনে প্রয়োজন একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষা সহকারী। সে হিসাবে মোট প্রয়োজন ১২ জন শিক্ষক ও শিক্ষা সহকারী। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাহমিনা আক্তার বলেন, বর্তমানে আমরা দুজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী আছি। আরও চারজন শিক্ষক অস্থায়ী আছেন। তাদের বেতন নেই। সুইড বাংলাদেশ কুমিল্লা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান বলেন, এখানে বাউন্ডারি না থাকায় প্রতিষ্ঠানের ভূমি অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
সুইড বাংলাদেশ কুমিল্লা শাখার প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল কাদের বাকী বলেন, ১৯৯০ সালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে এটা স্কুলের জন্য লিজ নিয়েছিলাম। এখানে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংকট তীব্র। একটা গাড়ি হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সুবিধা হতো। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা কাজ করা হবে। অন্যান্য সংকটের বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করব। সরেজমিনে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বেঞ্চ রেখে পাঠদান চলছে। ওপরে সিলিং নেই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিভাবক আসেন। তাদের সবার বসার ব্যবস্থা নেই। শিশুদের একসঙ্গে বসার জন্য নেই হলরুম। নেই ফিজিও থেরাপিসহ শিক্ষা সরঞ্জাম। মাঠ না থাকায় পাশের নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।